Breaking News
হোম > Breaking news > প্রয়াত হলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী
প্রয়াত হলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

প্রয়াত হলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী

ওয়েবডস্কঃ এবার খবরটা আর গুজব নয়।কিন্তু তার মৃত্যুর খবরটা শুনে নিজের চোখ কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা দেশ বাসি।তিনি যে আর নেই তা কেউ মানতে পারছেন। তিনি হলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী । বৃহস্পতিবার বিকাল ৫:০৫ মিনিটে ভারতের রাজনীতিতে নেমে এলো আরও এক শোক সংবাদ। দীর্ঘ কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্চা লড়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি দিল্লির AIMS  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ভারতের রাজনৈতিক মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী,মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বহু বিশিষ্টরা।

 

ভারতরত্ন তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী গুরুতর অসুস্থ হয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির এইমস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।গতকাল তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ সকাল থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হয়ে ওঠে । তাঁকে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি অত্যন্ত গম্ভীর বলে ব্যাখ্যা করেছিল।এই খবর দেশবাসীর কাছে পৌঁছাতেই সকাল থেকে তার আরোগ্য কামনা করে দেশ জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে ঈশ্বরের আরাধনা।কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলনা বাজপেয়ীর। এদিন বিকেল ৫:০৫ মিনিটে তিনি তাঁর ভক্তদের কাঁদিয়ে চির বিদায় নিলেন।মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।তাঁর এই মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।

 

১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর গোয়ালিয়রে কৃষ্ণ বিহারী বাজপেয়ী ও কৃষ্ণা দেবীর ঘরে জন্ম হয় অটল বিহারী বাজপেয়ীর। বাবা কৃষ্ণ বিহারী গ্রামের স্কুলের শিক্ষক ও কবি ছিলেন। কবিতার শখ সেখান থেকেই এসেছে অটলের মধ্যে। অটল গোয়ালিয়রের সরস্বতী শিশু মন্দির থেকে পড়াশোনা করেছেন। পরে গোয়ালিয়রের ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়েন। হিন্দি, ইংরেজি ও সংষ্কৃতে ডিস্টিংশন নিয়ে পাশ করেন তিনি। এরপরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণি সহ স্নাতকোত্তর পাশ করেন কানপুরের ডিএভি কলেজ থেকে। এতো গেল তার শিক্ষা জীবনের কথা ।তিনি রাজনীতি জীবনেও অল্প সময়ে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় বাজপেয়ীর। সেইসময়ে ২৩ দিন গ্রেফতার করে রাখা হয়েছিল বাজপেয়ী ও তাঁর দাদা প্রেমকে। পরে মুচলেখা দেন যে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁরা থাকবেন না। সেই শর্তে ছাড়া পান। ফলে স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁদের বেশি উজ্জীবিত হয়ে দেখা যায়নি।

 

এরপর তিনি আর্য সমাজের যুব শাখা আর্য কুমার সভা থেকে সমাজসেবায় অংশ নেওয়া শুরু বাজপেয়ীর। ১৯৪৪ সালে তিনি আর্য সমাজের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। এসবের মাঝে ১৯৩৯ সালে আরএসএসে যোগ দেন তিনি। ১৯৪৭ সালে পূর্ণ সময়ের আরএসএস কর্মী হন বাজপেয়ী। এইভাবে চলার পর ১৯৫৭ সালে প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে অংশ নেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। মথুরা থেকে দাঁড়িয়ে রাজা মহেন্দ্র প্রতাপের কাছে হেরে যান তিনি। তবে অন্য একটি আসনে বলরামপুর থেকে জিতে সংসদে যান। তাঁর ভাষণ এতটাই জোরদার ছিল যা প্রভাবিত করেছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকেও। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ও ২০০৪ সালে লখনউ লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। রাজ্যসভারও সাংসদ ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৩ দিনের জন্য

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৮ সালে ফের একবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ২০০৪ পর্যন্ত সেই দায়িত্বে ছিলেন। জাতীয় কংগ্রেসের বাইরে অ-কংগ্রেস রাজনীতিবিদ হিসাবে ভারতে তিনি প্রথম ও একমাত্র নেতা যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুরো মেয়াদ শেষ করেছেন। তিনিই হলেন ভারতের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি জাতিসংঘে হিন্দিতে ভাষণ দিয়েছিলেন।

 

শুধু মাত্র রাজনীতি নয় দেশের আবন্তরিন শান্তি শৃঙ্খলা নিরাপত্তা বিষয় তাঁর ভূমিকা অপরিসীম।১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি কড়া হাতে মোকাবিলা করেছিলে।

 

তাঁর এই রাজনৈতিক ও দেশ সেবার কাজের গুনমানে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া হয় অটল বিহারী বাজপেয়ীকে। তাঁকে সম্মান জানাতেই ২০১৪ সাল থেকে বাজপেয়ীর জন্মদিনটিকে ভারত সরকার ‘গুড গভর্নেন্স ডে’ হিসেবে পালন করে আসছে।এছাড়াও এনডিএ গঠনের পিছনে অটল বিহারির অবদান অনিস্বিকার্য। সারা ভারতের গ্রামের রাস্তাকে শহরের রাস্তার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়। এই সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা’ ছিলো বড়ো সাফল্য।অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তাঁর নিঃস্বার্থ দেশ ও সমাজসেবা এবং তাঁর প্রথম ও একমাত্র ভালোবাসা ‘ভারত’ – এর জন্য নিষ্ঠাবান কাজের স্বীকৃতিতে তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ-সামরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’ প্রদান করা হয়েছে।

 

আজ তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত ভারতের রাজনৈতিক মহল।অনেকের মতে তার এই মৃত্যুতে শেষ হল রাজনীতির আরও এক অধ্যায়।

আরও দেখুন

স্কুলেই দুই রাধুনির হাতাহাতি, বন্ধ মিড ডে মিল

স্কুলেই দুই রাধুনির হাতাহাতি, বন্ধ মিড ডে মিল

উত্তর দিনাজপুরঃ দুই রাঁধুনি গোষ্ঠির কাজিয়ায় বন্ধ হয়ে গেল স্কুল ও শিশু শিক্ষাকেন্দ্র। ঘটনাটি ঘটেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *