কলকাতার নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাউথ পয়েন্ট স্কুলের কোটি কোটি টাকা তছরুপের মামলায় এবার সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। স্কুলের প্রশাসক মণ্ডলী বা ট্রাস্টি বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য কৃষ্ণ দামানির প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ‘প্রাথমিক ভাবে বাজেয়াপ্ত’ বা অ্যাটাচ করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ (PMLA)-এর অধীনে ইডির কলকাতা জোনাল অফিস এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ইডির তরফে প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত কৃষ্ণ দামানি সাউথ পয়েন্ট এডুকেশন সোসাইটির অন্তত ২০ কোটি টাকার বিশাল তছরুপকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মূলত কলকাতা পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে ইডি। তদন্তে উঠে এসেছে যে, কৃষ্ণ দামানি সুকৌশলে স্কুলের তহবিলের অপব্যবহার করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজের ব্যক্তিগত সংস্থার কর্মীদের স্কুলে ভুয়োভাবে নিয়োগ দেখাতেন। বাস্তবে কম কর্মী দিয়ে কাজ করিয়ে বেশি সংখ্যক কর্মীর বেতন দেখিয়ে সেই অতিরিক্ত টাকা আত্মসাৎ করা হতো।
তদন্তকারী সংস্থা আরও জানতে পেরেছে যে, আত্মসাৎ করা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কৃষ্ণ দামানি তাঁর নিজের মালিকানাধীন বিভিন্ন সংস্থা এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে পাচার করতেন। উল্লেখ্য যে, স্কুলের এই আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালের শুরুতে। স্কুলের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর, ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। প্রাথমিক অভিযোগে জানানো হয়েছিল যে, ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স্কুলের অন্তত ১০ কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে। তবে ইডির বর্তমান তদন্তে দুর্নীতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানের আস্থার সুযোগ নিয়েই কৃষ্ণ দামানি এই চক্রান্ত চালিয়েছিলেন। ইডি এখন খতিয়ে দেখছে যে, বাজেয়াপ্ত হওয়া এই সাড়ে ১৮ কোটি টাকার বাইরেও আরও কোনো সম্পত্তি বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই তছরুপের টাকা লুকানো হয়েছে কি না। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপে শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইডির এই বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত মামলাটিকে একটি নতুন মোড় দিয়েছে, যা আগামী দিনে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির আরও গভীরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মতো একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের আর্থিক অনিয়মের ঘটনা সামনে আসায় অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইডির এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আমানত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। আপাতত বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
