ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত ২২ বছরের যুবক, মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়িতে নতুন জীবন

পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের অন্তর্গত মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি-তে সফলভাবে চিকিৎসা পেয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরলেন কিশনগঞ্জের ২২ বছরের ছাত্র রবি গুপ্ত (নাম পরিবর্তিত)। গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘুড়ি ওড়ানোর সময় তিনতলা ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর মাথায় আঘাত পান এবং অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।

হাসপাতালে আনার পর জরুরি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. সিঁথি পাল প্রথমে রোগীকে মূল্যায়ন করেন এবং দ্রুত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করেন। জরুরি বিভাগে রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল করার পরই একাধিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। এই দলে ছিলেন নিউরোসার্জারি বিভাগের ডা. অনুরুপ সাহা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের ডা. সমিত পারুয়া, প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ডা. সোইবাম জয়া লেইমা, জেনারেল সার্জারি বিভাগের ডা. পেনজিং দিচেন ভুটিয়া, অপথ্যালমোলজি বিভাগের ডা. মনোজ আগরওয়াল এবং অর্থোপেডিক্স বিভাগের ডা. পঙ্কজ কুমার।

অচেতন অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনার সময় প্রাথমিকভাবে তাঁর ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি, মুখমণ্ডলে আঘাত এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ইন্টুবেশন করে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয় এবং উন্নত লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রোগীর অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

চিকিৎসাকালীন সময়ে রোগীর আঘাতের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য একাধিক উন্নত পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ছিল ব্রেনের একাধিক সিটি স্ক্যান, ব্রেন ও স্পাইনের এমআরআই, ফেসিয়াল সিটি স্ক্যান এবং এক্স-রে। আইসিইউ-তে থাকাকালীন তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলতে থাকে। দীর্ঘ কিন্তু ধারাবাহিক উন্নতির পর তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলে তাঁকে জেনারেল ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে ডা. সিঁথি পাল বলেন, “রোগীকে অচেতন অবস্থায় আনা হয়েছিল। সেই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল দ্রুত মূল্যায়ন, শ্বাসনালি সুরক্ষিত করা এবং জরুরি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করা। সময়মতো হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এই তরুণ রোগীর সুস্থতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”

নিউরোসার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অনুরুপ সাহা বলেন, “উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়ার ফলে রোগীর মারাত্মক ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি হয়েছিল। দ্রুত এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট, ত্বরিত ইমেজিং এবং সময়মতো নিউরোসার্জারি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসা না হলে দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারত। তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠা প্রমাণ করে দ্রুত ট্রমা কেয়ার ও টিমওয়ার্কের গুরুত্ব।”

ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. সমিত পারুয়া বলেন, “পলিট্রমা রোগীদের চিকিৎসায় নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং একাধিক বিভাগের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই কেসে এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ধাপে ধাপে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট থেকে বের করে আনার প্রয়োজন ছিল। রোগীর ধীরে ধীরে উন্নতি আমাদের ক্রিটিক্যাল কেয়ার প্রোটোকলের শক্তিরই প্রতিফলন।”

নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে রবি গুপ্ত বলেন, “প্রথম কয়েকদিনের কিছুই আমার মনে নেই, কিন্তু আমি জানি মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ির ডাক্তার ও নার্সদের জন্যই আজ আমি বেঁচে আছি। তাঁদের নিরবচ্ছিন্ন যত্ন ও সহযোগিতায় আমি ধাপে ধাপে সুস্থ হয়ে উঠেছি। আমাকে নতুন জীবন দেওয়ার জন্য পুরো টিমের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি উন্নত পরিকাঠামো, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞ মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের সহায়তায় জটিল ট্রমা ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিস্থিতিতেও দ্রুত, মানবিক ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।