ভারতে বর্তমান চাকরির বাজার দ্রুত গতিতে এগোলেও সঠিক প্রতিভা খুঁজে পাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। লিঙ্কডইনের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের ৭৪ শতাংশ নিয়োগকর্তা যোগ্য প্রার্থী খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন, যদিও নিয়োগের হার করোনা পরবর্তী সময়ের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি। এর প্রধান কারণ হলো আবেদনের পরিমাণ ও গুণমানের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। নিয়োগকর্তাদের মতে, এআই দিয়ে তৈরি অগণিত আবেদনপত্রের ভিড়ে প্রকৃত দক্ষ প্রার্থীকে আলাদা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতিও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। বর্তমানে প্রতিটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা ২০২২ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা প্রতিযোগিতাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।
এই চাপের মুখে ভারতের ৭১ শতাংশ নিয়োগকর্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে ‘লুকিয়ে থাকা প্রতিভা’ বা ‘হিডেন ট্যালেন্ট’ খুঁজে বের করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। তাঁদের মতে, এআই এমন সব দক্ষ প্রার্থীকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করছে যারা আগে হয়তো নজর এড়িয়ে যেত। প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়োগকর্তা মনে করেন যে এআই-এর মাধ্যমে প্রার্থীর দক্ষতা যাচাই করা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে এবং ৭৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন এটি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত করেছে। আগামী দিনে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং প্রাথমিক বাছাই পর্ব বা প্রি-স্ক্রিনিং ইন্টারভিউয়ের জন্য এআই-এর ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়োগকর্তা।
লিঙ্কডইন ট্যালেন্ট সলিউশনস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রুচি আনন্দ জানিয়েছেন যে, বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন প্রার্থীর পদবি বা অতীতের প্রতিষ্ঠানের চেয়ে তাঁর বাস্তব দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে এআই একটি সহায়ক স্তর হিসেবে কাজ করছে। তবে এআই ব্যবহারের পাশাপাশি স্বচ্ছতার দাবিও বাড়ছে; ভারতের অর্ধেক নিয়োগকর্তা এখন আবেদনকারীদের কাছে এটি ব্যাখ্যা করতে দায়বদ্ধ যে কীভাবে বাছাই প্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে লিঙ্কডইন ‘হায়ারিং অ্যাসিস্ট্যান্ট’-এর মতো উন্নত এআই টুল নিয়ে এসেছে, যা নিয়োগকর্তাদের কাজের সময় কমিয়ে সঠিক প্রতিভা নির্বাচনে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
