লিঙ্কডইনের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, ক্যারিয়ার পরিবর্তনের প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভারতের ৮৪% পেশাদার এই বছর চাকরির বাজারে টিকে থাকার বিষয়ে নিজেদের অপ্রস্তুত মনে করছেন। যদিও ৭২% কর্মী সক্রিয়ভাবে নতুন ভূমিকা খুঁজছেন, তবে ৭৬% জানিয়েছেন যে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বদলে যাওয়ায় চাকরি খোঁজা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই গবেষণায় একটি ক্রমবর্ধমান “এআই প্যারাডক্স” বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে। একদিকে যেখানে ৮৭% পেশাদার কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন যে এআই-চালিত নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত যান্ত্রিক এবং জটিল। তবে, এআই এখন চাকরিপ্রার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করছে; ৯৪% চাকরিপ্রার্থী তাদের অনুসন্ধানে এআই টুল ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন এবং ৬৬% মনে করেন এটি তাদের ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে আত্মবিশ্বাস জোগায়।
লিঙ্কডইনের তথ্য বলছে যে ২০২২ সালের শুরুর তুলনায় ভারতে প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এই চাপের কারণে পেশাদাররা এখন নতুন দিগন্তের সন্ধান করছেন। ৩০%-এরও বেশি জেন এক্স এবং জেন জেড তাদের বর্তমান শিল্প বা কাজের ক্ষেত্র পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। পাশাপাশি, উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে, যার ফলে লিঙ্কডইনে ‘ফাউন্ডার’ বা প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজেদের তালিকাভুক্ত করার হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই ব্যবধান ঘোচাতে লিঙ্কডইন তাদের ‘২০২৬ জবস অন দ্য রাইজ’ তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক ভূমিকাগুলোর আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ার, এআই ইঞ্জিনিয়ার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি। লিঙ্কডইন ইন্ডিয়া-র ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ নিরাজিতা ব্যানার্জি বলেন, “প্রতিভা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এআই এখন একটি ভিত্তিগত অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেশাদারদের বুঝতে হবে কীভাবে তাদের অর্জিত দক্ষতা সুযোগে রূপান্তরিত হতে পারে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হলে, এআই টুলগুলো মানুষকে সঠিক পদ শনাক্ত করতে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিতে সাহায্য করতে পারে।” এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের সাহায্য করার জন্য লিঙ্কডইন এআই-চালিত জব ম্যাচিং এবং পার্সোনালাইজড সার্চ টুল প্রদান করে চলেছে।
লিঙ্কডইন অনুযায়ী চাকরির বাজারের জন্য ৮৪% ভারতীয় পেশাদারই অপ্রস্তুত
