বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার।
বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে ঘোষণা হতেই রাজ্যের কোটি কোটি মহিলাদের মধ্যে খুশির জোয়ার। জানানো হয়েছে, আগামী ১লা এপ্রিল থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে উপভোক্তারা অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে পাবেন।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, জেনারেল ও এসসি- এসটি দুই ক্যাটাগরিতেই সমানভাবে ৫০০ টাকা করে অনুদান বাড়ানো হয়েছে। ফলে এতদিন সাধারণ শ্রেণির মহিলারা যেখানে মাসে ১০০০ টাকা পেতেন, এখন থেকে তাঁরা পাবেন ১৫০০ টাকা।
অন্যদিকে, তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০ টাকার বদলে এবার থেকে মাসে ১৭০০ টাকা করে পাবেন। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১লা এপ্রিল থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই বর্ধিত টাকা পৌঁছাতে শুরু করবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে মহিলাদের সমর্থনকেই পাখির চোখ করেছে রাজ্য সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির মাঝেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে এই অতিরিক্ত ৫০০ টাকা সাধারণ মানুষের পকেটে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে বলে মনে করছে প্রশাসন। যদিও বিরোধী শিবির একে ‘ভোটের চমক’ বলে কটাক্ষ করেছে, তবুও প্রশাসনিক মহলের দাবি এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা নেবে।
এখানেই থেমে থাকেনি রাজ্য সরকারের ঘোষণা। শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের জন্যও সুখবর এসেছে অন্তর্বর্তী বাজেটে। ‘যুব সাথী’ নামে নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্রকল্পে কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বাধিক পাঁচ বছর ধরে মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এ প্রকল্প কার্যকর হবে।
এছাড়াও অন্তর্বর্তী বাজেটে আশাকর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার ও পার্শ্বশিক্ষকদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের ভাতা মাসে ১০০০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি আশাকর্মীরা পাবেন ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি। কর্মরত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে সরকার দেবে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য।
পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের সুযোগ না থাকলেও ভোট অন অ্যাকাউন্টেই একের পর এক জনমুখী ঘোষণায় স্পষ্ট ভোটের আগে জনতার মন জয়ের কৌশলে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার।
