পুজো মণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর ছবিকে ঘিরে শুরু রাজনৈতিক তরজা

সরস্বতী পুজোতেও পড়ল রাজনীতির ছোঁয়া। বাগদেবীর আরাধনাতেও রাজনৈতিক রঙ লাগায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

 ঘটনা আলিপুরদুয়ার শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে।

আলিপুরদুয়ার শহরের মনোজিৎ নাগ বাস টার্মিনাসের পেছনে সুভাষপল্লী খেলার মাঠে এই সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর আমন্ত্রণপত্রে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতজোড় করা ছবি। পুজোর থিম রাখা হয়েছে “দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা”। উদ্যোক্তাদের দাবি, মূলত রাষ্ট্রবাদী ছাত্র-যুবদের উদ্যোগেই এই পুজোর আয়োজন।

এই পুজোর ইনচার্জ জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন এবিভিপি জেলা সংযোজক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস।

 তিনি দাবি করেন, শুধু আলিপুরদুয়ার নয়, গোটা রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই একই থিমে একটি করে সরস্বতী পুজো আয়োজন করা হচ্ছে।

 আলিপুরদুয়ার জেলার পুজোটি হচ্ছে শহরের সুভাষপল্লী মাঠে।

বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বলেন, একটি নির্দিষ্ট ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই পুজো সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। পুজোর মূল ভাবনা দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা। রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে আমন্ত্রণপত্রে প্রধানমন্ত্রীর ছবি রাখা হয়েছে।

 প্রধানমন্ত্রী সকলের, সেই কারণেই তাঁর ছবি দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগগার এই পুজোর উদ্বোধন করার কথা থাকলেও সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। তবে দুই দিনব্যাপী পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চের পেছনের ফ্লেক্সেও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ছবি।

অন্যদিকে অভিযোগ, এই পুজোয় স্থানীয় ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর পার্থপ্রতিম মণ্ডল কিংবা আলিপুরদুয়ার পুরসভার পুরপ্রধান বাবলু কর কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাউন্সিলর পার্থপ্রতিম মণ্ডল। তিনি বলেন, এই পুজোতে কেউ আমন্ত্রণ জানায়নি। দলের ছেলেদের কাছ থেকেই বিষয়টি জেনেছি। সরস্বতী পুজো যে কেউ করতেই পারেন, তাতে কোনও আপত্তি নেই। তবে যে মাঠে পুজো হচ্ছে সেখানে ডিউস বলের ক্রিকেট পিচ রয়েছে, সেখানে নিয়মিত খেলাধুলো হয়।

 মাঠের যেন কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত।

তাঁর আরো অভিযোগ, দেব-দেবতা ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি বিজেপি করে, সরস্বতী পুজো নিয়ে রাজনীতি করার কোনও প্রয়োজন নেই।”

জানা গিয়েছে, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি দু’দিন ধরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুজোর মোট বাজেট প্রায় ৭০ হাজার টাকা।

 উদ্যোক্তাদের দাবি, এই অর্থ সম্পূর্ণ নিজেদের পকেট থেকেই দেওয়া হয়েছে, কোনও চাঁদা তোলা হয়নি।

অন্যদিকে গোটা বিষয়টি নিয়ে ধিক্কার জানিয়েছে জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস।

 স্বাভাবিকভাবেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আলিপুরদুয়ারে সরস্বতী পুজো ঘিরেও ভোট রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে।