নতুন বছরে কলকাতার পেশাদারদের মধ্যে কর্মজীবন পরিবর্তনের প্রবল ইচ্ছা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লিঙ্কডইন-এর সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, শহরের ৭২ শতাংশ চাকুরিজীবী এ বছর নতুন কাজের সন্ধান করছেন। তবে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ৩৮ শতাংশ পেশাদার নিজেদের দক্ষতা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এই প্রেক্ষাপটে লিঙ্কডইন তাদের ‘জবস অন দ্য রাইজ ২০২৬’ তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কলকাতায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল পেশা হিসেবে উঠে এসেছে ‘এআই ইঞ্জিনিয়ার’। শহরের এই বিবর্তিত শ্রমবাজারে প্রযুক্তির পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে। তালিকার শীর্ষ দশে এআই ইঞ্জিনিয়ারের পরেই রয়েছে ডেটা অ্যানালিস্ট, হোটেল ম্যানেজার, কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং মার্কেটিং কোঅর্ডিনেটরের মতো পদ। এটি কলকাতার পরিবর্তনশীল বাজারে হসপিটালিটি, মার্কেটিং এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
লিঙ্কডইন ইন্ডিয়া নিউজের সিনিয়র ম্যানেজিং এডিটর এবং ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ নিরাজিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কলকাতার চাকরির বাজার তার উদীয়মান ডিজিটাল অর্থনীতির মাধ্যমে নতুন গতি পাচ্ছে এবং বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন পেশাদারদের চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন শিল্প ও বিভাগে কাজের ধরন বদলানোর সাথে সাথে নিয়োগকর্তারা এখন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বা অভিযোজনযোগ্যতাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যে পেশাদাররা নিজেদের মূল কাজের দক্ষতার সঙ্গে এআই-এর কাজ জেনে আসছেন এবং প্রজেক্টের মাধ্যমে নিজেদের কাজের প্রমাণ দিচ্ছেন, তাঁরাই এখন সেরা সুযোগগুলো পাচ্ছেন। কারণ নিয়োগের এই ধারা এখন কেবল প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মার্কেটিং, হসপিটালিটি এবং কনসাল্টিংয়ের মতো ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে।”
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে যে, ৯৪ শতাংশ ভারতীয় পেশাদার চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলেও অর্ধেকের বেশি মানুষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এআই-এর ভূমিকা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লিঙ্কডইন তাদের প্ল্যাটফর্মে এআই-চালিত উন্নত ‘জব সার্চ’ এবং ‘রোল ম্যাচিং’ টুল নিয়ে এসেছে, যা প্রার্থীদের নিজস্ব ভাষায় কাজ খুঁজতে এবং নিজেদের যোগ্যতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদগুলো খুঁজে পেতে সাহায্য করছে। বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১৩ লক্ষের বেশি মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সঠিক কর্মসংস্থানের সন্ধান পাচ্ছেন।
