বিদ্যালয়ে টিচার -ইন – চার্জ (টিআইসি) নিয়োগকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্লাস বয়কট করলেন শিক্ষকরা। এর জেরে কার্যত লাটে উঠেছে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন ব্যবস্থা। ঘটনাটি ঘটেছে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বরুই পদ্মমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে।
জানা গিয়েছে, টিআইসি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) ও তুলসীহাটা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন টিআইসি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।
শিক্ষকদের অভিযোগ, সিনিয়র শিক্ষককে উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে জুনিয়র শিক্ষক দীপঙ্কর বিশ্বাসকে টিআইসি পদে বসানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের সিনিয়রিটির ভিত্তিতে শঙ্কর কুমার মণ্ডলই টিআইসি হওয়ার যোগ্য।
উল্লেখ্য, বরুই পদ্মমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে টিআইসি পদে ছিলেন অমল কুমার ঘোষ, যিনি সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন।
সহকারী শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি উজ্জ্বল কুমার সিংহ ও সত্যজিৎ মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, প্রাক্তন টিআইসির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। নতুন টিআইসি ও প্রাক্তন টিআইসির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বোঝাপড়া ছিল বলেই দাবি তাঁদের। প্রাক্তন টিআইসির দুর্নীতি যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সেই কারণেই জুনিয়র শিক্ষককে টিআইসি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বহু শিক্ষককে মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রবিউল হক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শিক্ষকরা সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশন করে মিটিং ডেকে যোগ্যতার ভিত্তিতেই দীপঙ্কর বিশ্বাসকে টিআইসি মনোনীত করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কীভাবে মেটে, সেদিকেই নজর সকলের।
