খড় ও কৃষি বর্জ্য থেকে অ্যামাজনের প্যাকিং বাক্স, পাশে আইআইটি রুরকি

পরিবেশ রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে আইআইটি রুরকির সঙ্গে যৌথ গবেষণার কথা ঘোষণা করল অ্যামাজন ইন্ডিয়া। এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো গমের খড় বা আখের ছিবড়ের মতো কৃষি বর্জ্য ব্যবহার করে উন্নত মানের কাগজ ও প্যাকেজিং সামগ্রী তৈরি করা। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ মিলিয়ন টন কৃষি বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যার একটি বড় অংশ পুড়িয়ে ফেলায় ব্যাপক বায়ুদূষণ ঘটে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই বর্জ্যকে মূল্যবান প্যাকেজিং উপাদানে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে, যা একদিকে যেমন খড় পোড়ানোর সমস্যা কমাবে, অন্যদিকে চাষিদের অতিরিক্ত আয়ের পথ প্রশস্ত করবে।

আইআইটি রুরকির ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং টেকনোলজি’-র তত্ত্বাবধানে আগামী ১৫ মাস ধরে এই গবেষণা ও ল্যাব-ভিত্তিক পরীক্ষা চলবে। গবেষকরা লক্ষ্য রাখছেন যাতে এই অ-কাষ্ঠ তন্তু থেকে তৈরি মোড়কগুলি প্রচলিত কাগজের মতোই মজবুত এবং টেকসই হয়। পরীক্ষা সফল হলে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যামাজন ইন্ডিয়ার অপারেশনস ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিনভ সিং জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের ফলে ভার্জিন উড পাল্প বা নতুন কাঠের মণ্ডের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং একটি চক্রাকার অর্থনীতি গড়ে উঠবে।

আইআইটি রুরকির ডিরেক্টর অধ্যাপক কমল কিশোর পান্ত এই সহযোগিতাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ‘স্বচ্ছ ভারত’ এবং ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’-র মতো সরকারি মিশনের সঙ্গে সংগতি রেখে এই গবেষণা ভারতকে স্বনির্ভর ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, অ্যামাজন ইন্ডিয়া ইতিপূর্বেই তাদের প্যাকেজিং থেকে ১০০ শতাংশ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন করেছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে নেট-জিরো কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কৃষি বর্জ্য থেকে তৈরি এই হালকা ও শক্তিশালী প্যাকেজিং উপকরণগুলি পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং বাড়িতেই পচনশীল হবে, যা প্লাস্টিকের একটি আদর্শ বিকল্প হয়ে উঠবে।