ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার জনজীবনে। বাণিজ্যিক গ্যাসের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে কার্যত অচল হতে বসেছে এই অঞ্চলের অটো পরিষেবা। ফলে শুধু সাধারণ যাত্রীরাই নন, চরম দুশ্চিন্তার মুখে পড়েছেন অটোর ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার পরিবার।বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত এলাকা থেকে সুন্দরবনের বিভিন্ন রুটে প্রায় ৩০০০ অটো চলাচল করে, যার সবকটিই বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। অটোচালকদের অভিযোগ, কেজি প্রতি যে গ্যাসের দাম আগে ছিল ৭২ টাকা, তা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকা। দাম বাড়লেও বাজারে গ্যাসের যোগান তলানিতে। ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় বসিরহাটের রাস্তায় ৩০০০ অটোর জায়গায় মাত্র ৫০০টি অটোকে নামতে দেখা গেছে। প্রায় ২০০০ থেকে আড়াই হাজার অটো বর্তমানে ঘরে বসে রয়েছে।
গ্যাসের এই হাহাকারকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল ফড়িয়া ও দালাল। চালকদের অভিযোগ, সাধারণ ডিলারদের কাছে গ্যাস না থাকলেও কালোবাজারিতে তিনগুণ দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। বাড়িতে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলেও তাঁদের দাবি। এই পরিস্থিতিতে পেটের টানে চড়া দামে গ্যাস কিনে অটো চালালেও পুরনো ভাড়ায় যাতায়াত করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন চালকরা। বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীদের সঙ্গে বচসা ও হাতাহাতি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্যাস অফিসের কর্মচারী বিনয় সরকার জানান, “কারখানা থেকে গ্যাসের লোডিং বন্ধ রয়েছে। সরবরাহ না থাকায় আমরা গ্যাস দিতে পারছি না। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।” এর ফলে অটো পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষের অন্নসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। চালকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্যাসের যোগান স্বাভাবিক না হলে মহকুমার সমস্ত রুটে এলপিজি অটো চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
