ভাস্কর চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি
কঠিন প্রশ্ন, দ্রুত উত্তর দেওয়ার চাপ আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে, তা নিয়ে টানটান উত্তেজনা। এমনই আবহে ২৯ অগাস্ট, শনিবার শিলিগুড়ি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এসআইটি)-তে অনুষ্ঠিত হল ‘নলেজ নকআউট সিজন ৩ – মেগা ইন্টারস্কুল ক্যুইজ কম্পিটিশন’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। শেষ হাসি হাসল কোচবিহারের বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ। চ্যাম্পিয়ন হলেন ওই স্কুলের পড়ুয়া দেবাদিত্য সরকার। বলাবাহুল্য, এই অনুষ্ঠানের আয়োজক এসআইটি। পাওয়ার্ড বাই মুখার্জী হসপিটাল, শিলিগুড়ি এবং ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, শিলিগুড়ি শাখা। হেলথকেয়ার পার্টনার হিমালয়ান নার্সিং কলেজ অ্যান্ড স্কুল, শিলিগুড়ি এবং টেকনিক্যাল পার্টনার এমটিআরটি গ্রুপ, ডালখোলা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, পশ্চিমবঙ্গের (ম্যাকাউট) পরীক্ষা নিয়ামক ড. শুভাশিস দত্ত। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার্স-আপ হয়েছেন সোনারপুর বি কে হাই স্কুলের হর্ষিত রায়। দ্বিতীয় রানার্স-আপের স্থান দখল করেছেন জলপাইগুড়ির জার্মেলস অ্যাকাডেমির রুদ্র ভাওয়াল। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি, শংসাপত্র এবং যথাক্রমে ৪০ হাজার, ৩০ হাজার ও ২০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার।
অনুষ্ঠানের যুগ্ম আহ্বায়ক পারমিতা চৌধুরী ও রত্নাঙ্কুর মজুমদার জানান, এ বার ‘নলেজ নকআউট’-এর তৃতীয় পর্ব। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি কিশানগঞ্জ-সহ সংলগ্ন এলাকার পড়ুয়াদের নিয়ে এই ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, গোটা প্রতিযোগিতায় ২৫টিরও বেশি শহরের ৬০টির বেশি স্কুল থেকে ৪ হাজারের বেশি পড়ুয়া অংশ নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতার পর এ দিন চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হয় সেরা প্রতিযোগীরা।
ফাইনাল পর্ব পরিচালনা করেন তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরের পরিচিত ক্যুইজমাস্টার এবং ‘ক্যুইজ ক্যাটালিস্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সূর্য নারায়ণন। তাঁর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি হাসি-মজাও চলেছে সমান তালে। কঠিন প্রশ্নের সামনে প্রতিযোগীদের দ্রুত চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃশ্যও নজর কেড়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘অডিয়েন্স রাউন্ড’। প্রতিযোগীদের পাশাপাশি দর্শকদেরও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সঠিক উত্তরদাতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় পুরস্কার। ফলে ফাইনালের উত্তেজনায় দর্শকরাও সরাসরি সামিল হওয়ার সুযোগ পান।
আয়োজকদের মতে, শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা নয়, পড়ুয়াদের মধ্যে সাধারণ জ্ঞান, কৌতূহল, যুক্তিবোধ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের কাছ থেকেও ভাল সাড়া মিলেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাস্কর রায়, এসআইটির ভাইস প্রিন্সিপাল ড. অরুন্ধতী চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল পড়ুয়াদের এক মঞ্চে এনে এই ধরনের প্রতিযোগিতা আগামী দিনেও চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে।
