অপ্রশস্ত ভবনে বেডের ছড়াছড়ি, পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন শিলিগুড়ির নার্সিংহোমে

বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতে রোগীদের ন্যূনতম পরিষেবা এবং পরিকাঠামো ঠিকঠাক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শিলিগুড়িতে অভিযান চালাল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে বিভিন্ন নার্সিংহোম পরিদর্শন করে একাধিক অনিয়ম ও পরিকাঠামোগত ঘাটতির অভিযোগ সামনে আসে।

পরিদর্শনে গিয়ে কমিশনের প্রতিনিধিরা কোথাও দেখতে পান, গুদামঘর বা বেসমেন্টের মতো জায়গায় রোগীদের বসিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রেই শৌচালয় কিংবা পানীয় জলের মতো ন্যূনতম ব্যবস্থাও ছিল না বলে অভিযোগ। রোগীদের ব্যবহারের জায়গার পাশেই বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থাকায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

পরিস্থিতি দেখে ঘটনাস্থলেই দমকল দফতরকে ডাকা হয়। পাশাপাশি শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রতিনিধিদেরও ডেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। অপ্রশস্ত ভবনের মধ্যে কীভাবে এতগুলি বেড নিয়ে নার্সিংহোম পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

শুধু পরিকাঠামো নয়, চিকিৎসকদের নথিপত্র নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। একটি নার্সিংহোমে এক চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন দেখতে চাওয়া হলে তিনি সেই মুহূর্তে তা দেখাতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। আবার বেশ কিছু চেম্বার ও সাইনবোর্ডে চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ না থাকার বিষয়টিও নজরে আসে কমিশনের।

অভিযানের পর একাধিক নার্সিংহোমকে বিভিন্ন বিষয়ে শোকজ করেছে স্বাস্থ্য কমিশন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু স্পষ্ট জানান, রোগীদের ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী সমস্ত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিস্থিতির উন্নতি করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ফের পরিদর্শনে আসার কথাও জানানো হয়েছে।