নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাসে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবমন্দিরে ভৈমী একাদশী তিথিতে প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে বসেছে মেলা। প্রতি বছর ভৈমী একাদশীতে শুরু হয় নদিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিব নিবাস মন্দিরের মেলা শুরু হয় ভৈমী একাদশী উপলক্ষ্যে নদিয়ার শিব নিবাস মন্দিরের মেলা ও চলে শুভরাত্রি পর্যন্ত। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ শিবনিবাস মন্দির, যেখানে রয়েছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ। সারা বছরই দূর দূরান্ত থেকে ভক্তের দল আসে এখানে পুজো দিতে। শিবরাত্রিতে ভক্তের ঢল দেখা যায় এখানে। তবে ভৈমী একাদশীতে প্রতিবছর মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয় শিবনিবাস মন্দির কে কেন্দ্র করে। ভক্তরা বহু দূর দূরান্ত থেকে পুজো দিতে আসেন এখানে। চলতি বছর প্রায় ২৬২ বছরে পদার্পণ করল এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গের শিব মন্দির ।নদিয়ার শিব নিবাসের ভৈমী একাদশীর মেলা।
কথিত আছে, নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বর্গীদের ভয়ে কৃষ্ণ গঞ্জের শিবনিবাসে আশ্রয় নেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার কুলো পুরোহিত ব্রজেশ্বর মিশ্রের শরণাপন্ন হন বর্গীয় দস্যুর আক্রমণ থেকে নিজের পরিবারকে কিভাবে রক্ষা করবেন । রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কে তার কুলো পুরহিত হোম যজ্ঞ করে নিদান দেন মারাঠা দস্যু নসরাত খাঁ শৈব ধর্মালম্বী শিবের উপর সে কোন আঘাত আনবে না। কুলো পুরোহিতের নির্দেশে বারানসি থেকে কষ্টিপাথর নিয়ে এসে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ রাজরাজেশ্বর প্রতিষ্ঠা করেন। ভৈমী একাদশী তিথিতে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। সেই থেকে ভৈমী একাদশী তিথিতে শিবনিবাস মন্দির কেন্দ্র করে মেলা বসে ।চলে শিবরাত্রি পর্যন্ত। রাজার নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল এই ভৈমী একাদশীর মেলা। এই মেলা চলবে শিব রাত্রি পর্যন্ত।এই মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল মাইলোর খই। বিভিন্ন জায়গা থেকে দোকানদাররা আসেন এই মেলায় খৈই নিয়ে। ভক্তরা পুজো দেওয়ার পর কিছুটা খই নিয়ে বাড়ি যান। এই মেলার প্রধান আকর্ষণ মাইলোর খৈই। আর এটাই প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেন সমস্ত শিব ভক্তরা।মেলার বিশেষত্ব সধবা এবং বিধবা সব মহিলারাই ভগবান রাম-সীতার কাছে অর্ঘ্য নিবেদন করবেন।
সধবা মহিলারা প্রার্থনা করবেন তাঁরা যাতে সধবা হয়েই থাকেন, বিধবারা প্রার্থনা করবেন তাঁরা যাতে আগামী জন্মে বিধবা না হন। মেলাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই প্রতিটি মন্দিরে উপচে পড়া ভিড় । মেলাতে যাতে কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই জন্য কৃষ্ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করা হয়েছে । যে সমস্ত বৃদ্ধ, বৃদ্ধারা চলার ক্ষমতা নেই অথচ মন্দিরে পুজো দিতে এসেছেন তাদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে মন্দির থেকে তোলার এবং নামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে । এমনকি মন্দিরের জল ঢালার সময় শিবলিঙ্গের সিঁড়িতে সেখানেও পুলিশ ভক্তদের জল ঢালার কাজে সাহায্য করছেন সেই ছবিও আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে । মেলা কে সর্বাঙ্গীণ এবং সুন্দর করে তোলার জন্য শিবলীবাজ গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলেছে। শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে।
