ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে ভারত১.এআই আজ বেঙ্গালুরুতে একটি ‘হিউম্যানিটি-ফার্স্ট’ এআই সিটি তৈরির লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করেছে। এটি একটি শহর-ভিত্তিক গবেষণা এবং পরিকাঠামো উদ্যোগ, যা বাস্তব পরিবেশের উপযোগী ফাউন্ডেশনাল এজেন্টিক এবং ফিজিক্যাল এআই সিস্টেমগুলোকে উন্নত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন ল্যাবরেটরির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়িয়ে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের স্তরে পৌঁছে গিয়েছে, তাই এর নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রশ্নগুলো অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ভাষা এবং কোডিং-এর ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা দেখালেও, শুধুমাত্র ইন্টারনেটের বিক্ষিপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বুদ্ধিমত্তা আগামী প্রজন্মের অটোমেটিক এবং ফিজিক্যাল সিস্টেম উভয়ের জন্যই যে যথেষ্ট হবে তার সম্ভাবনা কম। এখন কেবল বড় পরিসরে নয়, বরং বাস্তব পৃথিবীর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রমাণিত ও প্রয়োগ যোগ্য বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন। এই লক্ষ্যমাত্রার প্রথম পর্যায়টি বাস্তবায়িত হবে বি১ এআই সুপারমার্ক-এর মাধ্যমে, এটি বেঙ্গালুরুর সারজাপুরে অবস্থিত ৫ লক্ষ বর্গফুটের একটি এআই রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ক্যাম্পাস। এটি এআই মডেল ট্রেনিং, ফাইন টিউনিং এবং ইনফারেন্সের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এই বছরের শেষের মধ্যে এআই স্টার্টআপ, ইউনিভার্সিটি, এআই রিসার্চ ল্যাব এবং বড় বড় গ্লোবাল ও ভারতীয় সংস্থার ১০ হাজারেরও বেশি এআই গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ স্পেসের সুবিধা চালু হবে।
প্রথম পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হবে নিয়ন্ত্রিত কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইন্টেলিজেন্স’ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা এবং সেগুলোর কার্যক্ষমতা যাচাই করা। এছাড়াও স্ট্রাকচারড ও উচ্চমানের মাল্টিমোডাল ডেটা ব্যবহার করে ওপেন সিটি-স্কেল ওয়ার্ল্ড মডেল তৈরি করা এবং বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে এজেন্টিক ও ফিজিক্যাল এআই সিস্টেমগুলোর জন্য শক্তিশালী ভ্যালিডেশন লেয়ার তৈরি করা। এটি আধার-এর মতো ডিজিটাইজড হিউম্যান আইডেন্টিটি সিস্টেমের সঙ্গে এজেন্টিক সিস্টেমগুলোকে মৌলিকভাবে যুক্ত করার বিষয়েও কাজ করবে। এই সুপারপার্ক প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা অংশীদার হিসেবে ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত করবে, যার মধ্যে রয়েছে দ্য ঐরাবত রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআইটি কানপুর), স্পার্ক (সেফটি, প্রাইভেসি অ্যান্ড এআই রিসার্চ সেন্টার, আইআইএসসি), ওয়াদওয়ানি স্কুল অফ এআই অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস (আইআইটি কানপুর), বিটস পিলানি, আইস্পিরিট ফাউন্ডেশন এবং আইআইটি রোপার। এসব প্রতিষ্ঠানের গবেষক, প্রকৌশলী এবং একাধিক স্টার্টআপ রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় পরিকাঠামো, গতিশীলতা এবং মানুষ ও যন্ত্রের মিথস্ক্রিয়া সংক্রান্ত পরিমাপযোগ্য ও ভ্যালিড ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম তৈরির জন্য একসঙ্গে কাজ করবে।
উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং এবং সিমুলেশনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই ক্যাম্পাসে প্রধান এআই ক্লাউড প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সাব-মিলি-সেকেন্ড ল্যাটেন্সিসহ ৪০০ জিবিপিএস পর্যন্ত কানেক্টিভিটি থাকবে, যা তথ্য সংক্রান্ত কোনো বাধা ছাড়াই বড় আকারের গবেষণার সুযোগ করে দেবে। আগামী ৩৬ মাসে এই উদ্যোগটি সুপারপার্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি বিস্তৃত ‘এআই সিটি টেস্টবেড’-এ রূপান্তরিত হবে, যা ভারতীয় ও গ্লোবাল সংস্থাগুলোকে গতিশীল নগর-পরিকাঠামোয় এআই সিস্টেম পরীক্ষা এবং মোতায়েন করার সুযোগ করে দেবে। সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত১.এআই-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও উমাকান্ত সোনি বলেন, “আমরা এআই বিপ্লবের একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে সমাজের মূল কাঠামোর সঙ্গে মিশে গিয়েছে। জটিল ও বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা না করে এই সিস্টেমগুলোকে বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা আমরা নিতে পারি না। ভারত১.এআই হলো ‘মুনশট ফর হিউম্যানিটি’, এটি বাস্তব বিশ্বের এমন এক মৌলিক বুদ্ধিমত্তা তৈরির অঙ্গীকার যা নিরাপদ, যাচাইযোগ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে। বি১ এআই সুপারপার্ক হলো সিটি-স্কেল ভ্যালিডেশন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির প্রথম পদক্ষেপ, যেখানে এজেন্টিক এবং ফিজিক্যাল এআই কেবল শক্তিশালী হয়ে নয়, বরং দায়িত্বশীলভাবে বিকশিত হতে পারবে।”
