সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছেন যে, প্রয়াত ধনকুবের জেফরি এপস্টাইনের যৌন পাচার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের চ্যাপাকুয়াতে হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে এক দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার জবানবন্দিতে তিনি এই তথ্য জানান। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার এই জেরায় ক্লিনটন অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলেন যে, এপস্টাইনের সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল মূলত ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের দাতব্য কাজের সূত্র ধরে এবং তিনি কখনোই কোনো অবৈধ বা অনৈতিক কাজের সাক্ষী হননি। জবানবন্দির এক পর্যায়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি যা দেখেছি এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে যা দেখিনি—তা আমি জানি। আমি কিছুই দেখিনি এবং আমি কোনো ভুল কাজ করিনি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যদি এপস্টাইনের অপরাধের বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত তিনি পেতেন, তবে তিনি নিজেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করতেন।
তদন্তকারীরা ক্লিনটনকে এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমান ‘ললিটা এক্সপ্রেস’-এ চড়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মানবিক মিশনে যাওয়া এবং সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা কিছু বিতর্কিত ছবি সম্পর্কে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিশেষ করে একটি উষ্ণ প্রস্রবণে (হট টাব) একজন অজ্ঞাত মহিলার সাথে ক্লিনটনের ছবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে, সেই মহিলা কে ছিলেন তা তাঁর মনে নেই এবং কোনো ধরণের অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়টি তিনি সরাসরি অস্বীকার করেন। ক্লিনটন দাবি করেন যে, এপস্টাইন অত্যন্ত চতুরতার সাথে তাঁর অন্ধকার জগতকে সবার থেকে আড়ালে রাখতেন, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর প্রকৃত চরিত্র কারো সামনে আসেনি। তিনি ২০০৫ সালের দিকে এপস্টাইনের বিরুদ্ধে প্রথম আইনি অভিযোগ ওঠার অনেক আগেই তাঁর সাথে সমস্ত ব্যক্তিগত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
এই ঐতিহাসিক জবানবন্দিটি মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একদিকে রিপাবলিকান সাংসদরা এপস্টাইনের সাথে ক্লিনটন দম্পতির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। ক্লিনটন জবানবন্দিতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এপস্টাইনের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন, যা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই জবানবন্দিকে স্বচ্ছতার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অনেক ভুক্তভোগীই ক্লিনটনের ‘কিছুই না জানার’ দাবিতে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। আদালতের এই নথিপত্রগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার ফলে এখন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে এপস্টাইনের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
