পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি কথিত স্টিং অপারেশন ভিডিওর জেরে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রধান হুমায়ুন কবীরের সাথে নির্বাচনী জোট বাতিলের ঘোষণা করেছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএম (AIMIM)। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে মিম জানিয়েছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের সততা ও মর্যাদা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলে, তাদের সাথে জোট রাখা সম্ভব নয়। গতকাল তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি ২০ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে হুমায়ুন কবীরকে জনৈক ব্যক্তির সাথে ১,০০০ কোটি টাকার একটি চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি এই বিপুল অর্থের বিনিময়ে মুসলিম ভোট ভাগ করার দায়িত্ব দিয়েছে হুমায়ুন কবীরকে। ভিডিওটিতে আরও দেখা গেছে যে, হুমায়ুন কবীর মুসলিমদের আবেগকে ব্যবহার করে ‘বোকা বানানোর’ কথা বলছেন এবং বাবরি মসজিদের নাম ব্যবহার করে ভোট টানার পরিকল্পনা করছেন। এই ঘটনার পরই মিম তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, তারা এখন এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো দলের সাথে আর জোটে যাবে না।
এই বিস্ফোরণ ঘটার সাথে সাথে হুমায়ুন কবীর অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে তার কণ্ঠস্বর ও প্রতিচ্ছবি তৈরি করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর সাফ জানিয়েছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে তৃণমূল এই ষড়যন্ত্র করেছে এবং তিনি এর বিরুদ্ধে ২,০০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করবেন। অন্যদিকে, তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির গভীর চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন। তারা এই বিশাল অংকের লেনদেনের তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বিজেপি অবশ্য এই বিতর্ককে তৃণমূলের ‘সস্তা নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই স্টিং অপারেশন এবং জোট ভাঙার নাটকীয় ঘটনা সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনগুলোতে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের আগে এই ভিডিও বিতর্কই এখন রাজ্যের রাজনীতির মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
