১৮ মাসের বকেয়া ঘিরে পিএইচই দফতরের গেটে তালা ঠিকাদারদের

দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে বকেয়া পাওনা না মেলায় আলিপুরদুয়ারে জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) দফতরের অফিসের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন ঠিকাদাররা।

বুধবার দফতরের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ধীরাজ মণ্ডল মূল গেটের কাছেই আটকে থাকেন বলে জানা গিয়েছে।

ঠিকাদারদের দাবি, আলিপুরদুয়ার জেলার প্রায় ৭০ জন ঠিকাদারের মোট প্রায় ১২০ কোটি টাকা গত দেড় বছর ধরে বকেয়া রয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার জেরে তাঁদের পরিবারে তীব্র আর্থিক সংকট নেমে এসেছে।

 কাজের টাকা না পেয়ে অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত বলেও অভিযোগ। সূত্রের খবর, রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই সমস্যায় কিছু ঠিকাদার চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।

এদিন আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানান, দ্রুত বকেয়া মেটানো না হলে আগামী দিনে গোটা রাজ্যে জল পরিষেবা স্তব্ধ করে দেওয়ার পথে হাঁটতে পারেন তাঁরা।

পাশাপাশি কলকাতায় গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন ঠিকাদার হতাশার সুরে বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।”

অন্যদিকে, এই ইস্যুতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছে করে বাংলার উন্নয়ন থামিয়ে দিতে বকেয়া অর্থ আটকে রেখেছে।”

পাল্টা জেলা বিজেপি নেতা শংকর সিনহা দাবি করেন, “এই দফতর নিয়ে সাংসদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছিল।

 সেখানে অভিযোগ ওঠে, কিছু ক্ষেত্রে কাজ না করেই বিল পাশ করানো হয়েছে। সেই তথ্য কেন্দ্রের কাছে পৌঁছেছে বলেই বিল আটকে থাকতে পারে।”

উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের প্রকল্পগুলিতে ব্যয়ের ৬০ শতাংশ বহন করে কেন্দ্র সরকার ও ৪০ শতাংশ দেয় রাজ্য সরকার। ফলে অর্থ বরাদ্দ ও বিল মেটানো নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই পরস্পরকে দোষারোপ করলেও, বকেয়া সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে তার প্রভাব আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পড়তে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। আপাতত দাবিদাওয়া না মেটা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।