পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার ভারতের বোতলজাত পানীয় জলের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার ফলে প্লাস্টিক বোতল ও প্যাকেজিং সামগ্রীর খরচ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। এর জেরে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি চাপে পড়েছে এবং শীঘ্রই খুচরো বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিল্প সূত্রে জানা গেছে, বোতল তৈরির প্রধান কাঁচামাল পলিমারের দাম গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। শুধু বোতলই নয়, ঢাকনার দামও অনেকটাই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি কোরাগেটেড বাক্স, আঠা ও অন্যান্য প্যাকেজিং সামগ্রীর দামও বাড়ছে। ফলে সামগ্রিক উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
Federation of All India Packaged Drinking Water Manufacturers Association-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ২,০০০ ছোট নির্মাতা প্রতি বোতল জলের দাম প্রায় ১ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। এই বৃদ্ধি প্রায় ৫ শতাংশের সমান। শিল্পমহলের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে আগামী দিনে দাম আরও ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সংগঠনের এক কর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খুব শিগগিরই এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের উপর পড়তে পারে। বর্তমানে ভারতে এক লিটার বোতলজাত পানীয় জলের দাম সাধারণত ২০ টাকার নিচে থাকলেও, খরচ এভাবে বাড়তে থাকলে সেই দামও বাড়তে বাধ্য।
তবে বড় ব্র্যান্ডগুলির ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত খুচরো দামে বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। বড় সংস্থাগুলি আপাতত নিজেদের মুনাফা কমিয়ে বাড়তি খরচ সামলানোর চেষ্টা করছে। যদিও প্রিমিয়াম পানীয় জলের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচেও প্রভাব পড়বে। কারণ বোতলজাত পানি শহর ও ভ্রমণক্ষেত্রে একটি প্রয়োজনীয় পণ্য হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কীভাবে দেশের সাধারণ পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলছে, এই ঘটনাটি তারই একটি বড় উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয় এবং বাজার কতটা স্থিতিশীল থাকে।
প্লাস্টিক বোতলের খরচ বাড়ছে, শীঘ্রই বাড়তে পারে পানীয় জলের দাম
