এলপিজি সংকটে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ইন্ডাকশন কু stoves-এর চাহিদা তুঙ্গে

কেরালাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের মুখে সাধারণ মানুষের ভরসা এখন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ওপর, যার ফলে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইন্ডাকশন কুকটপ বা বৈদ্যুতিক চুল্লির চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের অনিয়মিত সরবরাহ এবং বুকিংয়ের দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রাহকরা বিকল্প রান্নার ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এবং জিও মার্টের মতো বড় ই-কমার্স সাইটগুলোতে রান্নার সরঞ্জামের বিভাগে ইন্ডাকশন কুকটপের বিক্রিতে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চল ও আধা-শহরাঞ্চলের গ্রাহকরা এখন গ্যাসহীন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে অনলাইনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আধুনিক ও সাশ্রয়ী ইন্ডাকশন চুল্লি অর্ডার করছেন, যার ফলে অনেক জনপ্রিয় মডেল ইতিমধ্যে ‘আউট অফ স্টক’ বা মজুত শেষ বলে প্রদর্শিত হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রান্নার গ্যাসের এই অনিশ্চয়তা কেবল সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি মানুষের জীবনযাত্রার ধরনেও পরিবর্তন আনছে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার এখন এলপিজির ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎচালিত রান্নার সরঞ্জামের দিকে স্থায়ীভাবে মনোনিবেশ করছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে দ্রুত ডেলিভারি এবং আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট থাকায় মানুষ দোকানে যাওয়ার চেয়ে অনলাইনেই কেনাকাটা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। এ ছাড়া ইন্ডাকশন কুকটপগুলো ওজনে হালকা, সহজে বহনযোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসের তুলনায় দ্রুত রান্না করতে সক্ষম হওয়ায় কর্মজীবী মানুষের কাছে এটি প্রথম পছন্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিগুলোও এই সুযোগে উন্নত প্রযুক্তির ‘স্মার্ট ইন্ডাকশন’ বাজারে নিয়ে আসছে, যা কম বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং অনেক বেশি নিরাপদ।

বর্তমানে কেরালার কোচি বা তিরুবনন্তপুরমের মতো শহরগুলোতে যেখানে গ্যাসের সংকট সবচেয়ে বেশি, সেখান থেকে সবচেয়ে বেশি অনলাইন অর্ডার আসছে বলে জানা গেছে। অনেক গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানিয়েছেন যে, এলপিজি সিলিন্ডার পেতে ২০ থেকে ২৫ দিন দেরি হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই ইন্ডাকশন ব্যবহার শুরু করেছেন। ই-কমার্স সংস্থাগুলোও এই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে বড় বড় গুদামে ইন্ডাকশন কুকটপের মজুত বাড়াচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ে তা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বাজার আরও চাঙ্গা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিশেষে, এই সংকটকালীন সময়ে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও লাঘব করতে সমর্থ হয়েছে।