উত্তরবঙ্গ জুড়ে চিকিৎসকরা প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রাথমিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারণ হরমোনজনিত সমস্যা, ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর স্বল্পতা এবং পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের মতো প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলো এখন কম বয়সেই ধরা পড়ছে।
শিলিগুড়ির বিড়লা ফার্টিলিটি অ্যান্ড আইভিএফ-এর কনসালট্যান্ট এবং সেন্টার হেড ডাঃ অঙ্গনা দে জানান:
“উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় আমরা বিপুল সংখ্যক তরুণীর মধ্যে পিসিওএস শনাক্ত করেছি। এর পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে কম বয়সেই অনেক মহিলার ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। একইভাবে, পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের কারণগুলো, যেমন অ্যাজোস্পার্মিয়া এবং শুক্রাণুর নিম্নমানের সমস্যা একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে দম্পতিরা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান ধারণে ব্যর্থ হওয়ার পরেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “চিকিৎসা বিজ্ঞানের দিক থেকে উদ্বেগের বিষয় হলো এই যে, অনেক দম্পতি বেশ কয়েক বছর চেষ্টার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসেন, ততদিনে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক প্যারামিটারগুলোর অবনতি ঘটে। বারবার ব্যর্থ চেষ্টার বদলে যদি হরমোনজনিত স্বাস্থ্য, ডিম্বাণুর সঞ্চয় এবং শুক্রাণুর গুণমান আগেভাগে পরীক্ষা করা হয়, তবে চিকিৎসার ফলাফল অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়। সঠিক সময়ে পরীক্ষা এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা এই অঞ্চলের রোগীদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন যে, সাধারণ কিছু প্রাথমিক পরীক্ষার মাধ্যমে দম্পতিরা দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে পারেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো আরও কার্যকরভাবে পরিকল্পনা করতে পারেন।
