আইপ্যাক কার্যালয়ে ইডি তল্লাশি ও মমতার মামলা: সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত তুঙ্গে

আইপ্যাক (I-PAC) কার্যালয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র সাম্প্রতিক অভিযানকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে শুরু হয়েছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘ শুনানি। ভারতের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজ্যের আইনজীবী সওয়াল করেছেন যে, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা আর্থিক অনিয়মের নথি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে একটি বেসরকারি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার ওপর এই ধরনের অভিযান জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার কৌশল বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে পাল্টাযুক্তি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। ইডি-র দাবি, সংস্থায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে যা বড় কোনো আর্থিক দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করছে। শুনানির সময় বিচারপতিরা দুই পক্ষের যুক্তিই মন দিয়ে শোনেন এবং তল্লাশির আইনি বৈধতা ও রাজ্য সরকারের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানতে চেয়েছে যে, ইডি-র এই অভিযানে আইনি পদ্ধতি সম্পূর্ণ অনুসরণ করা হয়েছে কি না। এই মামলার রায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার কার্যক্ষমতার সীমারেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে গোটা দেশের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের দিকে, কারণ এই লড়াই কেবল আইনি নয়, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের এক নতুন পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।