বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ নির্বাচন কমিশনের

রবিবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলা-সহ পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল ও দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল। দুই দফা মিলিয়ে রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।

প্রথম দফায় ভোট হবে ১৫২টি আসনে ও দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে বাকি ১৪২টি আসনে। ভোট গণনা হবে ৪ মে। কারণ আগামী ৭ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথে ৭০০ থেকে ৮৫০ জন ভোটারের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ভোটারদের মোবাইল ফোন নিয়ে বুথে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর আগে বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। প্রথমে খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। পরে ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত বিষয় সামনে আসে এবং তা নিয়ে মামলা পৌঁছায় সুপ্রিম কোর্টে।

আদালতের নির্দেশ মেনে ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২০২৫ সালের তালিকার তুলনায় মোট ৬৩ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়াও এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ বা অ্যাডজুডিকেশন পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভোটার (১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি) রয়েছেন প্রায় ৫ লক্ষ ২৩ হাজার জন।

অন্যদিকে ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ। এসআইআর প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “এসআইআর-এর মূল লক্ষ্য ছিল কোনও বৈধ ভোটার যাতে বাদ না পড়েন ও কোনও অবৈধ ভোটার যাতে তালিকায় থেকে না যান, তা নিশ্চিত করা।“

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে।