২০২২ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন, আফগানিস্তান তখন ছিল বড়জোর ‘জায়ান্ট কিলার’। কিন্তু ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কানাডার বিপক্ষে জয়ের পর যখন জোনাথন ট্রট আফগান ডাগআউট থেকে বিদায় নিচ্ছেন, তখন আফগানিস্তান বিশ্ব ক্রিকেটের এক সমীহ জাগানিয়া শক্তি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও, ট্রটের বিদায়ে জয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেল কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যকার গভীর আত্মিক টান।ইংল্যান্ডের হয়ে ৫২টি টেস্ট খেলা ট্রট কোনোদিন রুট বা কুকের মতো বড় তারকা ছিলেন না। কিন্তু কোচ হিসেবে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তাঁর অধীনেই ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তান ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুপার এইটে ওঠার গৌরব অর্জন করে।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের নির্ভরশীলতা কাটিয়ে দলকে একটি ‘পরিবারে’ রূপান্তর করেন তিনি — জোনাথন ট্রট, বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে।
“আমি আফগানিস্তানের প্রত্যেক ক্রিকেটারের অভাব অনুভব করব। ওদের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। এমন একটা দলের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত।”
আফগানিস্তানের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের ক্রিকেটারদের এক সুতোয় বাঁধা সহজ কাজ ছিল না। ট্রট শুধু টেকনিক বা রণকৌশল শেখাননি, তিনি শিখিয়েছেন দলগত সংহতি। তালিবান শাসনে থাকা দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে ড্রেসিংরুমকে তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করেছিলেন। ক্রিকেটারদের স্বার্থে এমনকি বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে বিবাদেও জড়িয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে আফগান অধিনায়ক রশিদ খান বলেন, “ট্রট আসার পর আমরা দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছি। আমাদের দলটাকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার কৃতিত্ব ওঁর।” অন্যদিকে, ৯৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়া ইব্রাহিম জাদরান তাঁর পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন প্রিয় কোচকে। তিনি বলেন, “জোনাথন ট্রট, আপনার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। আপনি আমাদের অন্ধকার সময়েও উৎসাহিত করেছেন।”
