বাংলায় শিশু বিবাহের অবসান: অন্ধকারের শেষ থেকে আশার দিগন্ত

ভারতে শিশু বিবাহের হার যেখানে পশ্চিমবঙ্গে এখনও অনেক বেশি, সেখানে মুর্শিদাবাদ জেলায় ধীরে ধীরে এক আশার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই জেলার সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে এখন শিশু বিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সমাজের ভেতর থেকেই শুরু হওয়া এই পরিবর্তন সত্যিই একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ


এই পরিবর্তনের মুখ হয়ে উঠেছে গাজধরপাড়া হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মোনিজা খাতুনের মতো মেয়েরা। ২০২৫ সালের জুন মাসে মোনিজা চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ ফোন করে তার ১৪ বছর বয়সি এক সহপাঠিনীর আসন্ন বিয়ের কথা জানায়। সেই সহপাঠিনীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিয়েটি বন্ধ করে দেয়। ২০২৫ সাল জুড়ে মোনিজা মোট ছয়টি শিশু বিবাহ রুখতে সাহায্য করেছে, যার মধ্যে তার পরিচিত ও সহপাঠীদের ঘটনাও রয়েছে।


এনজিও, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগ সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভুল প্রথাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যদিও এখনও নানা সামাজিক চাপ রয়েছে, তবুও মুর্শিদাবাদের এই অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দেয়—সচেতনতা, সাহস এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে ‘নিরাশার শেষ’ থেকেও স্থায়ী আশা গড়ে তোলা সম্ভব।