এই শীতের আমেজে মন চায় বেরিয়ে আসতে। কিন্তু কোথায় যাবেন তা ভাবতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ। যদি সমতলেই ঘুরতে চান তবে আপনার গন্তব্য হতে পারে স্থানীয় মন্দির। অপরূপ নির্মাণ কৌশল, অজানা ইতিহাস ও সৌন্দর্যে ভরা এই মন্দিরগুলি যেন একেকটা কিংবদন্তি। এই মরশুমে ঘুরে নিতে পারেন এমনই তিন মন্দির।
হংসেশ্বরী মন্দির : হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়াতে অবস্থিত এই মন্দির। হাওড়া-কাটোয়া লাইনে বাঁশবেড়িয়া স্টেশনে নেমে পৌঁছে যাবেন হংসেশ্বরী মন্দিরে। ব্যান্ডেল স্টেশনে নেমে অটো বুক করেও আসা যাবে। গাড়ি নিয়ে এলে কলকাতা থেকে দিল্লি রোড ধরে আসতে পারেন। দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার।
এই মন্দিরের আরাধ্যা দেবী হংসেশ্বরী। তিনি কার্যত মা কালীরই এক রূপ। মূল মন্দিরের পাশেই রয়েছে অনন্ত বাসুদেবের মন্দির। পাঁচ তলা বিশিষ্ট এই মন্দিরের তেরোটি চূড়া। চূড়ার মাথায় রয়েছে পদ্মের কুঁড়ি। শোনা যায়, ১৭৯৯ সালে এই মন্দির নির্মাণ শুরু করেছিলেন বাঁশবেড়িয়ার রাজা নৃসিংহ দেব। তাঁর মৃত্যুর পর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন তাঁর স্ত্রী শঙ্করী দেবী। মন্দিরগাত্রের অপরূপ টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ মুগ্ধ করে।
শ্যামচাঁদ মন্দির : শান্তিপুরে ছড়িয়ে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন। রয়ে গিয়েছে ইংরেজ আমলের ভগ্নপ্রায় নীলকুঠি। এছাড়াও এই ভূমি চৈতন্যতীর্থ। সন্ন্যাস গ্রহণের পরে প্রথম শান্তিপুরেই এসেছিলেন চৈতন্য। এই অঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম হল ইটের তৈরি আটচালার শ্যামচাঁদ মন্দির। জানা যায়, ১৭২৬ খ্রিস্টাব্দে শান্তিপুরের ব্যবসায়ী রামগোপাল খান চৌধুরী এই মন্দির নির্মাণ করেন। লোক মুখে শোনা যায়, সে যুগে এটি তৈরি করতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ লক্ষ টাকা। মন্দিরগাত্রের সূক্ষ্ম টেরাকোটার কারুকাজে খোদাই করা আছে বিবিধ পৌরাণিক কাহিনি। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে কষ্টিপাথরের তৈরি শ্রীকৃষ্ণ (শ্যামচাঁদ) এবং অষ্টধাতুর রাধিকার মূর্তি।
শিয়ালদহ থেকে শান্তিপুর লোকাল ধরে যেতে হবে। এবার মন্দির ঘোরার জন্য স্টেশন থেকে টোটো, অটো ধরে নিন। এছাড়াও গাড়ি ভাড়া করে সড়কপথেও যাওয়া যাবে।
নাচিন্দা : কাঁথি নাচিন্দা গ্রামের নাচিন্দা বাজার এলাকায় রয়েছে নাচিন্দা মায়ের মন্দির। কলকাতা বা শহরের যে কোনও প্রান্ত থেকে দিঘা বা কাঁথিগামী বাস ধরে নাচিন্দায় পৌঁছে মন্দিরে পৌঁছাতে পারেন। এছাড়াও, ট্রেনে করে কাঁথিতে নেমে সেখান থেকেও টোটো বা অটো ধরে ঘুরতে পারেন।
স্থানীয়দের কাছে বেশ জাগ্রত এই স্থান। কথিত রয়েছে, এক বৃদ্ধা দেবী শীতলার স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেছিলেন। পরে মন্দির তৈরি হয়। লোক মুখে শোনা যায়, দেবী এখানে নানা রূপে অধিষ্ঠিত হন। মা চণ্ডী, শীতলা, কালী এবং রক্তাবতীর নিয়মিত পুজো হয় এই মন্দিরে। এই শীতে মাতৃ-দর্শনে ঘুরে আসুন এই মন্দির।
