খবর পাকা ছিল গোয়েন্দা বিভাগের কাছে। বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকে বেশ কিছু বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদ ঢুকতে চলেছে শহরে। দ্রুত সচল হয়ে যায় বিহার এবং কলকাতায় আমাদের সোর্স নেটওয়ার্ক। সমস্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে আমাদের রেডারে উঠে আসে বিহারের গয়ার এক বাসিন্দা, যার গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখতে শুরু করি আমরা। কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে শহরে প্রবেশ করবে এই ব্যক্তি? না, গয়া থেকে রাতের বাসে কলকাতা, তারপর হয় অটো, নয়তো হলুদ ট্যাক্সিতে করে নিজের গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা।
সেইমতন কসবা থানা এলাকায় রাসবিহারী কানেক্টর-এ সকাল থেকে সাদা পোশাকে নজরদারি চালু করে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগের গুণ্ডাদমন শাখার একাধিক টিম। সন্দেহভাজনের গতিবিধি সম্পর্কে আগাম খবর থাকলেও ঠিক কখন, বা কোন ধরনের যানবাহনে চড়ে সে এলাকায় ঢুকবে, তা আমাদের সঠিক জানা ছিল না। সুতরাং দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা ধরে চলতে থাকে একের পর এক অটো এবং ট্যাক্সি ধরে ধরে চেকিং।
অবশেষে পুরস্কার মেলে ধৈর্যের। দুপুর একটা নাগাদ গড়িয়াহাট থেকে বাইপাস-মুখো একটি অটো থামিয়ে আমরা আটক করি গয়া জেলার বাসিন্দা, ৩৮ বছর বয়সী মহম্মদ ইশতিয়াককে। তার মালপত্রের তল্লাশি করে আমরা পাই তিনটি সিঙ্গল-শট রিভলভার, দুটি ছয়-চেম্বারের রিভলভার, একটি ৭মি.মি. পিস্তল, এবং মোট এগারো রাউন্ড কার্তুজ।
