নদী বাঁচাতে নিষেধাজ্ঞা, প্রচার আর পরিষ্কার অভিযানের পরও বাস্তবে বদলাচ্ছে না ছবি। শিলিগুড়ির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘুঘুমারী এলাকায় জোড়াপানি নদী ক্রমশই পরিণত হচ্ছে আবর্জনার ভাগাড়ে। প্রতিদিনের বাজারের বর্জ্য, প্লাস্টিক ও থার্মকলের স্তূপে কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ।
পৌরনিগমের তরফে গোটা শহরে থার্মোকল ব্যবহার ও নদীতে আবর্জনা ফেলার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও, ঘুঘুমারী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেই নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। নদীর উপর থাকা ব্রিজের দু’পাশে নেট লাগানো হলেও তা শুধু নামমাত্র প্রতিরোধ হিসেবেই রয়ে গিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত নজরদারির অভাবে একাংশ ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে বাজারের নোংরা আবর্জনা সরাসরি নদীতে ফেলছেন। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন আশপাশের বাসিন্দারাও।
এই পরিস্থিতিতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে পৌরনিগম। জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের মেয়র পারিষদ মানিক দে জানান, নদী দূষণের সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করতেই ঘুঘুমারী এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, নদীতে আবর্জনা ফেললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অলোক ভক্ত জানান, এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হলে নদী সংলগ্ন পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধু ভবিষ্যতের প্রকল্প নয় নদীকে বাঁচাতে এখনই লাগাতার নজরদারি, কঠোর জরিমানা ও সচেতনতা বাড়ানোর মতো বাস্তব পদক্ষেপ কতটা দ্রুত নেওয়া হবে, সেটাই দেখার।
