বিজ্ঞাপন ও বিনোদনের ডিজিটাল ধাঁধায় জেন আলফা: এএসসিআই-এর নতুন গবেষণা ‘হোয়াট দ্য সিগমা?’

বর্তমানের ‘জেন আলফা’ প্রজন্ম কেবল ইন্টারনেট ব্যবহারই করছে না, বরং তারা ইন্টারনেটের ভেতরেই বসবাস করছে। অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এএসসিআই) অ্যাকাডেমি অ্যান্ড ফিউচারব্র্যান্ডস কনসাল্টিং-এর যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে বলা হয়েছে এই প্রজন্মের শিশুরা বিজ্ঞাপন, বিনোদন এবং শপিং-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য বোঝে না।

৭ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ওপর করা এই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তাদের নিজস্ব ভাষা, রুচি ও সংস্কৃতি এখন বিশ্বব্যাপী একই সূত্রে গাঁথা, যা অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কাছেও দুর্বোধ্য। অভিভাবক বা শিক্ষকের বদলে এখন শিশুদের জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে ডিজিটাল ‘অ্যালগরিদম’। তাদের পছন্দ-অপছন্দ চলে আসছে সোশ্যাল মিডিয়া বা অ্যাপের ফিড-এ। ৭-১২ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণ বিজ্ঞাপনী বিরতি চিনতে পারলেও, ভ্লগ বা গেমের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রচারণাকে বিনোদন হিসেবেই দেখে। অন্যদিকে, ১৩-১৫ বছর বয়সীরা কিছুটা সচেতন হলেও ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছে সহজেই।

এএসসিআই-এর সিইও মণীষা কাপুর জানান, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। গবেষণায় কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রচারণায় স্পষ্ট চিহ্ন বা ‘ইউনিভার্সাল সাইনপোস্টিং’ ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। স্কুলের পাঠ্যক্রমে মিডিয়া ও বিজ্ঞাপনের পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। প্ল্যাটফর্ম ও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল প্রচার নিশ্চিত করার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। এই ডিজিটাল বাস্তবতার যুগে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং বিজ্ঞাপনদাতা সকলকে সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে এএসসিআই।