‘এবার পাকিস্তান কয়ভাগে বিভক্ত হবে তা কেবল ঈশ্বর জানেন’: রাজনাথ সিং

ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং কড়া মন্তব্য করেছেন। একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন যে, পাকিস্তানের পরিস্থিতি এখন এতটাই শোচনীয় যে ভবিষ্যতে দেশটি কয়টি খণ্ডে বিভক্ত হবে, তা কেবল ঈশ্বরই জানেন। রাজনাথ সিংয়ের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন পাকিস্তান চরম মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মুখে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং মনে করিয়ে দেন যে, অতীতেও পাকিস্তানের ভুল নীতির কারণে দেশটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। তিনি পরোক্ষভাবে সতর্ক করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইতিহাস আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই তীক্ষ্ণ আক্রমণ মূলত পাকিস্তানের কাশ্মীর নীতি এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার প্রেক্ষাপটে করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চায়, কিন্তু পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ না করে, তবে তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজনাথ সিং আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর মোকাবিলা করতে সক্ষম। পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) জনগণের মধ্যেও যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে, সেই দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন যে, সেখানকার মানুষ এখন ভারতের উন্নয়ন দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছে এবং তারা পাকিস্তানের শাসন থেকে মুক্তি চায়। এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের অখণ্ডতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা রাজনাথ সিংয়ের এই বক্তব্যকে ভারতের কঠোর পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান যদি নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান না করে এবং ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত অন্ধকার। বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তান যেভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে এবং তাদের অর্থনীতি যেভাবে পতনের দিকে যাচ্ছে, সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরাই ছিল তাঁর এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই ‘বিভাজন’ সংক্রান্ত মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি কেবল একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির একটি রূঢ় বিশ্লেষণ। পরিশেষে তিনি ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, ভারত তার সীমান্তে কোনো ধরনের অস্থিরতা বরদাস্ত করবে না।