গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে, সংসদ সদস্য এবং ভারতের প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভাইব্রেন্ট শিলিগুড়ি – ভিশন ২০৪৭’ প্রকাশ করেছেন। শিলিগুড়ি সিটিজেন্স ফোরামের একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, শিলিগুড়িকে কেবল যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য ও আধুনিকতার একটি জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চীনের কাছাকাছি থাকায় এই শহরের ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম।
এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় বেশ কিছু বড় পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং এইমস মানের উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরি করা, যাতে উত্তরবঙ্গের মানুষকে চিকিৎসার জন্য আর কলকাতার ওপর নির্ভর করতে না হয়। এছাড়া শহরের যানজট কমাতে মাটির নিচ দিয়ে মেট্রো, বন্যপ্রাণী রক্ষায় এলিভেটেড করিডোর এবং শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়াং ও মিরিক পর্যন্ত কেবল-কার (রোপওয়ে) চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শ্রী শ্রিংলা বলেন, “শিলিগুড়ির ভৌগোলিক অবস্থানই এর ভাগ্য ঠিক করে দিয়েছে, কিন্তু সঠিক লক্ষ্য আর কাজই একে সঠিক দিশা দেখাবে।” ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ ও ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যসভার সাংসদ সঙ্গীতা যাদব শিলিগুড়িকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ২০৪৭ সালের আগেই উত্তরবঙ্গের পূর্ণ বিকাশের ওপর জোর দেন। বাগডোগরা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং এনজেপি স্টেশনের আধুনিকীকরণের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোকে ভিত্তি করে এই নতুন পরিকল্পনা উত্তরবঙ্গকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি করে তুলবে।
