কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে ‘হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ (এইচএমএআই)-এর সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন এবং ‘অল ইন্ডিয়া হোমিওপ্যাথি কংগ্রেস’-এর তিন দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য সন্মেলন আয়োজিত হয়। এই সন্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ইন্দোরের প্রখ্যাত চিকিৎসক এবং অ্যাডভান্সড হোমিও হেলথ সেন্টারের ডিরেক্টর ডাঃ এ. কে. দ্বিবেদীর বক্তৃতা “অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া: রোগের প্যাথোফিজিওলজি এবং হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিভঙ্গি”। তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন যে, সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া এবং হাইপোপ্লাস্টিক ম্যারোর মতো জটিল রোগও নিরাময় সম্ভব। তার উপস্থাপিত প্রামাণ, তথ্য এবং সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের কেস স্টাডি উপস্থিত চিকিৎসক ও গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ডাঃ দ্বিবেদী তার বক্তৃতায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জানান যে, ওষুধের পাশাপাশি ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস রোগীদের দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে গুড়-ছোলা এবং শীতকালীন গুড়ের নাড়ু (যেমন তিল, তিসি বা বাদামের নাড়ু) প্রাকৃতিক আয়রনের উৎস হিসেবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। তিনি স্পষ্ট করেন যে, গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে রক্ত বা প্লাজমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, তবে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে ধীরে ধীরে তা বন্ধ করাও সম্ভব। সকলের আশা বৈজ্ঞানিক কৌশল ও সঠিক নথি হোমিওপ্যাথিকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী জায়গা দেবে। গবেষণাধর্মী এবং অনুপ্রেরণামূলক অবদানের জন্য সন্মেলনে তাকে বিশেষ সম্মান ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়।
বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে হোমিওপ্যাথিক বিজ্ঞান সন্মেলন
