গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তের জেরে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটারদের পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকেরাও চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন গ্যাস এজেন্সির অফিসের সামনে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, হঠাৎ করেই গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে একাধিক নতুন বিধিনিষেধ চালু করেছে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ আর ডিস্ট্রিবিউটারদের হাতে থাকবে না।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ডিস্ট্রিবিউটাররা। নর্থ বেঙ্গল অ্যান্ড সিকিম এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কৌশিক সরকার জানান, হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ডিস্ট্রিবিউটারদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ও এর প্রভাব সাধারণ গ্রাহকদের ওপরও পড়ছে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাবে দার্জিলিং পাহাড় থেকে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা চরম দিশাহীন হয়ে পড়েছেন। শিলিগুড়ির অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মাধ্যমেই রান্নার কাজ হয়। ফলে সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড়সড় সঙ্কটে পড়েছেন।
শিলিগুড়ির হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান মজুত দিয়ে বড়জোর দুই থেকে তিনদিন কাজ চালানো সম্ভব। এরপর নতুন করে সিলিন্ডার না পেলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও। এদিকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু ক্ষেত্রে কালোবাজারি শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায় ‘কাটিং গ্যাস’ অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
মঙ্গলবার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ডিলার অফিসের সামনে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিক্ষোভও দেখান। অন্যদিকে অনলাইন বুকিংয়ে সমস্যার কারণে শিলিগুড়ির হায়দারপাড়া, সুভাষপল্লি ও এনজেপি এলাকার ডিস্ট্রিবিউটর অফিসগুলিতেও গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। একদিকে সরবরাহে ঘাটতি, অন্যদিকে চড়া দামের অভিযোগ এই জোড়া সমস্যায় কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ ও পর্যটন শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।
