আবাস যোজনার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্লক দপ্তরের মধ্যেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক গৃহবধূ।
ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নং ব্লক এলাকায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাল বাংরুয়া গ্রামের বাসিন্দা শুকতারা বিবি (৪৫) দীর্ঘদিন ধরেই পাকা বাড়ির আশায় আবাস যোজনার আবেদন করেছিলেন। প্রথমে তালিকায় নাম থাকলেও পরবর্তীতে তা বাদ পড়ে যায় বলে অভিযোগ।
এই বিষয়ে সুরাহার আশায় ব্লক দপ্তরে যান তিনি। অভিযোগ, সেখানে কোনও সদুত্তর না পেয়ে হতাশায় দপ্তরের মধ্যেই বিষপান করেন।
ঘটনার পরপরই ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সোনাম ওয়াঙদী লামা দ্রুত গাড়িতে করে তাঁকে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতাল-এ ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, “বাংলার বাড়ি প্রকল্পে তৃণমূল নেতারা বহু টাকা সংগ্রহ করেছেন। খোঁজ নিয়ে দেখুন, ওই মহিলাও হয়তো আশায় টাকা দিয়েছিলেন। এখন নাম কেটে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা চাই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।”
বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রূপেশ আগরওলাও দাবি করেন, দুর্নীতির কারণেই প্রকৃত উপভোক্তারা ঘর পাচ্ছেন না, সেই কারণেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ হয়েছে।
অন্যদিকে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশিষ কুন্ডুর দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, “শুকতারা বিবির নামে ইতিমধ্যেই একটি পাকা বাড়ি রয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করছে, যা নিন্দনীয়।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসনের তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
