ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বাড়তে পারে পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম, চাপে ভারতীয় অর্থনীতি

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। ইরান –কে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের উপর।
ভারত বর্তমানে প্রায় ৮২ শতাংশ খনিজ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১ ডলার বাড়লে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ বাড়তে পারে। সম্প্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮২ ডলারের উপরে উঠেছে, এবং বিশ্লেষকদের মতে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হরমুজ় প্রণালী। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ভারতের আমদানিকৃত ক্রুডের বড় অংশও এই পথেই আসে। সংঘাতের জেরে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, দেশের হাতে বর্তমানে প্রায় ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রল-ডিজেলের দাম না বাড়লেও যুদ্ধ দীর্ঘ হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ার আশঙ্কা বেশি, কারণ এলএনজি-র বড় অংশও পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে।
দেশের শীর্ষ বেসরকারি ব্যাঙ্ক এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক সতর্ক করে জানিয়েছে, তেলের দামে বড় বৃদ্ধি হলে রুপির উপর চাপ পড়বে এবং আর্থিক ঘাটতি বাড়তে পারে। তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে ঘাটতি ৪০-৫০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধের আঁচ ভারতের হেঁশেল থেকে অর্থনীতি—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।