ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাব ভারতের জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে, যা সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে ভারতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি (LPG) সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজির একটি বিশাল অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করে। যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে আমদানিকৃত গ্যাসের ট্যাঙ্কারগুলো ভারতে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হবে। এর ফলে বাজারে এলপিজির তীব্র ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং সরবরাহ বজায় রাখতে সরকারকে হিমশিম খেতে হবে। আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মতে, এই সংকটের ফলে রান্নার গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি এলপিজির কাঁচামালের দামও বাড়তে শুরু করেছে। ভারত সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের বোঝা কমাতে কৌশলগত মজুত ব্যবহারের কথা ভাবছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চললে এই মজুত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে, বিশেষ করে যারা ভর্তুকিহীন সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যুদ্ধের কারণে যদি লজিস্টিক বা পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, তবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো লোকসান এড়াতে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়াতে বাধ্য হবে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত এখন বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস আমদানির পথ খুঁজছে এবং রাশিয়া বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সাথে আলোচনার গতি বাড়িয়েছে, যাতে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
