মণিপাল হাসপাতালের ‘অন্বেষণা’ উদ্যোগে দুর্গাপুরে উন্নত গাইনোকোলজিক অনকোলজি, জিআই সার্জারি ও কার্ডিয়াক কেয়ারের উপর বিশেষ আলোকপাত

পূর্ব ভারতে গাইনোকোলজিক ক্যান্সার, জটিল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ এবং হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের প্রেক্ষিতে, মণিপাল হাসপাতাল গ্রুপের অন্তর্গত মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস আজ দুর্গাপুরে তাদের ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি ‘অন্বেষণা – মেডিক্যাল এডুকেশন ফর মিডিয়া’-র আওতায় একটি ইন্টার‌্যাকটিভ সচেতনতা অধিবেশন আয়োজন করে। এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের ডা. অরুণাভ রায়, বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গাইনোকোলজিক অনকোলজি; ডা. সুমন্ত দে, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান – রোবোটিক, অ্যাডভান্সড ল্যাপারোস্কোপিক, ব্যারিয়াট্রিক ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জারি; এবং ডা. অশেষ হালদার, কনসালট্যান্ট – কার্ডিয়োলজি। তাঁরা অঞ্চলে নারী ক্যান্সার, জটিল সার্জিক্যাল রোগ এবং হৃদরোগের বাড়তে থাকা বোঝা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। চিকিৎসকেরা রোগের পরিবর্তিত ধরণ, জীবনযাপনজনিত ঝুঁকি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব এবং মিনিমালি ইনভেসিভ গাইনোকোলজিক অনকোলজি, রোবোটিক ও ল্যাপারোস্কোপিক জিআই সার্জারি, ব্যারিয়াট্রিক প্রক্রিয়া এবং আধুনিক কার্ডিয়াক কেয়ারের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। সময়মতো চিকিৎসা, মাল্টিডিসিপ্লিনারি দক্ষতা এবং উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতা কীভাবে রোগীর সুস্থতা ও জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংস্কৃত শব্দ ‘অন্বেষণা’—যার অর্থ অনুসন্ধান ও আবিষ্কার—থেকে অনুপ্রাণিত এই উদ্যোগ মণিপাল হাসপাতালের যৌথ শিক্ষণ, দায়িত্বশীল স্বাস্থ্য যোগাযোগ এবং সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। এর আগে তামলুক, কাঁথি, বর্ধমান, জামশেদপুর, আইজল, মালদা, দার্জিলিং, বোলপুর, বারুইপুর ও হাওড়ায় এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এবার দুর্গাপুরে এই উদ্যোগের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা বিভিন্ন বিভাগের জটিল চিকিৎসা বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরেন এবং প্রচলিত নানা ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সহায়তা করেন। এসব উদ্যোগ একত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সময়মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং রোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। গাইনোকোলজিক ক্যান্সার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডা. অরুণাভ রায় বলেন, “সার্ভিক্স, ডিম্বাশয়, জরায়ু এবং অন্যান্য গাইনোকোলজিক ক্যান্সার এখনও নারীদের জন্য একটি বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ, যার অন্যতম কারণ দেরিতে রোগ নির্ণয় ও সচেতনতার অভাব। নিয়মিত স্ক্রিনিং ও সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে রোগ নির্ণয় দ্রুত হয় এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আমাদের হাসপাতালে গাইনোকোলজিক অনকোলজি বিভাগে উন্নত ডায়াগনস্টিক, মিনিমালি ইনভেসিভ ও ফার্টিলিটি সংরক্ষণকারী সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি পদ্ধতির সমন্বয়ে প্রতিটি রোগীর জন্য ব্যক্তিগত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়।”

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারির অগ্রগতি তুলে ধরে ডা. সুমন্ত দে বলেন, “নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে জটিল পেটের রোগ, স্থূলতা-সংক্রান্ত সমস্যা এবং জিআই রোগ দ্রুত বাড়ছে। রোবোটিক ও উন্নত ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি রোগীসেবায় বিপ্লব এনেছে—যার ফলে আরও নিখুঁত অপারেশন, কম ব্যথা, কম সময়ে হাসপাতাল ছাড়া এবং দ্রুত আরোগ্য সম্ভব হচ্ছে। মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসে আমরা হার্নিয়া, কোলোরেক্টাল রোগ, জিআই ক্যান্সার, ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি ও অ্যাবডোমিনাল ওয়াল রিকনস্ট্রাকশনের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সার্জিক্যাল টিমের সহায়তায় সমগ্র চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করি।”