‘নতুন নৌপথ’ ব্যবহার করে হরমোজ প্রণালী অতিক্রম করল ভারতীয়সহ ৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ

পারস্য উপসাগরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্যেই একটি ভারতীয় জাহাজসহ মোট চারটি বাণিজ্যিক ভেসেল ‘নতুন এক নৌপথ’ ব্যবহার করে সফলভাবে কৌশলগত হরমোজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই জাহাজগুলো প্রথাগত রুট এড়িয়ে তুলনামূলক নিরাপদ ও বিকল্প একটি পথ বেছে নিয়েছে, যা বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় লজিস্টিকস ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য কোনো সামরিক সংঘাতের কবলে পড়া থেকে বাঁচতেই এই কৌশলী পথ ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় জাহাজটির এই নিরাপদ অতিক্রমণের ফলে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়েছে।

এই নতুন রুটের সফল ব্যবহার প্রমাণ করে যে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকারী সংস্থাগুলো বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। হরমোজ প্রণালী বিশ্বের খনিজ তেলের একটি বড় অংশের ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় এখানকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনার ফলে এই অঞ্চলে নৌ-চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও, নতুন এই নৌপথের ব্যবহার পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার ক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো বর্তমানে তাদের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ওমান উপসাগর হয়ে আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এই নতুন পথটি আগামীতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যও একটি নিরাপদ করিডোর হিসেবে কাজ করবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সাহায্য করবে। তবে এই রুটটি কতটুকু টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান ও নৌ-নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর।