শুটিং বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জিতল ভারতীয় জুটি

বিশ্ব শুটিংয়ের মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন দুই তরুণ শুটার পলক গুলিয়া ও মুকেশ নেলাভাল্লি। স্পেনের গ্রানাডায় আয়োজিত শুটিং বিশ্বকাপে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিক্সড টিম ইভেন্টে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন তাঁরা। ফাইনালে এই ভারতীয় জুটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চীনা দল এবং প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জজয়ী হাঙ্গেরিয়ান জুটিকে হারিয়ে অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন। সিনিয়র স্তরে মুকেশের এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ছিল এবং প্রথম সুযোগেই তিনি নিজেকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রতিযোগিতার ফরম্যাট অনুযায়ী, মিক্সড টিম ইভেন্টের লড়াই এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। আগে ফাইনালে দুটি জুটির মধ্যে লড়াই হলেও বর্তমানে চারটি জুটির মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। ফাইনালের প্রথম তিনটি রাউন্ডে প্রতিটি দল মোট ৩০টি শট মারে, যার ভিত্তিতে চার নম্বর স্থানে থাকা দলটি বাদ পড়ে। পরবর্তী রাউন্ডগুলোতে পয়েন্টের ভিত্তিতে একটি করে দল বাদ পড়তে থাকে এবং শেষ রাউন্ডে শীর্ষে থাকা জুটি চ্যাম্পিয়ন ঘোষিত হয়। এই কঠিন সমীকরণের মধ্যেও পলক ও মুকেশ স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে ৪৮৭.৭ পয়েন্ট স্কোর করেন, যা বিশ্বকাপের মিক্সড ইভেন্টে একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।

যোগ্যতা অর্জন পর্বে পলক ও মুকেশ চীনা জুটির ঠিক পিছনেই ছিলেন। তবে ফাইনালে তাঁরা চীনের কাই হু ও কিয়ানসুন ইয়াও জুটিকে ২.৯ পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত করেন। সোনা জয়ের পর মুকেশ জানান যে, সিনিয়র স্তরে এটি তাঁর প্রথম পদক এবং তিনি ও পলক নিজেদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই এই সাফল্য অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালের জুনিয়র বিশ্বকাপে ২৫ মিটার এয়ার পিস্তলে সোনা জয় এবং এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের পর মুকেশের এই জয় ভারতীয় শুটিংয়ে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সতীর্থ মুকেশকে কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি পলক গুলিয়া। তিনি বলেন যে, মিক্সড টিম ইভেন্টে জুটির মধ্যে বোঝাপড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন ফরম্যাটে লড়াই অনেক বেশি হওয়ায় শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি ছিল এবং তাঁরা সেটি করতে পেরেছিলেন। পলক আরও জানান যে, তিনি নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং মুকেশের ধারাবাহিকতা তাঁর কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল। এই জয়ের ফলে অলিম্পিক্স পদকজয়ী হাঙ্গেরির ভেরোনিকা মেজর ও আকোস নাগাইয়ের মতো অভিজ্ঞ জুটিকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত।

ভারতীয় শুটিং ফেডারেশন ও ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য পলক ও মুকেশকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রানাডার এই সাফল্য আগামী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে ভারতীয় শুটিং দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জয় প্রমাণ করে যে, বিশ্ব শুটিংয়ে ভারতের আধিপত্য দিন দিন আরও সুসংহত হচ্ছে। তরুণ এই জুটির হাত ধরে ভারত আগামী অলিম্পিক্সেও বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখছে।