বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে ভারত এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে শেষ হওয়া অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি অবিশ্বাস্যভাবে ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.১ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা) দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের সুফল এখন আন্তর্জাতিক স্তরে দৃশ্যমান হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও ভারত যেখানে মূলত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, এখন সেই ভারত বিশ্বের শতাধিক দেশে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। এই উল্লম্ফন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশ মিসাইল সিস্টেম, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল এবং বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার ও ড্রোন ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার দেশগুলো ভারতের তৈরি সাশ্রয়ী ও উন্নত মানের সামরিক সরঞ্জামের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত অর্থবর্ষে বেসরকারি এবং সরকারি—উভয় খাতের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোই তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। ভারত সরকার গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা রপ্তানি সহজতর করতে লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছ করেছে, যা ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলোকে (MSME) এই খাতে উৎসাহিত করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে, ভারতের লক্ষ্য এখন আরও বড়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে রপ্তানির পরিমাণকে আরও রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভারত সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা শুরু করেছে। কেবল অস্ত্রশস্ত্র নয়, যুদ্ধবিমান তেজস এবং আধুনিক রাডার সিস্টেমের বাজারজাতকরণেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার এই রূপান্তর ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করছে। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে ভারত আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় নিজের স্থান পাকাপোক্ত করে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অগ্রগতি দেশের প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতাকে কেবল শক্তিশালী করছে না, বরং কয়েক হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে।
