জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনের পরামর্শ ইরফান পাঠানের

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের শোচনীয় হারের পর ভারতীয় ক্রিকেট দলে এখন উদ্বেগের ছায়া। এই হারের ফলে ভারতের নেট রান-রেট যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি সেমিফাইনালের পথও অনেকটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন সংকটকালীন পরিস্থিতিতে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ‘ডু-অর-ডাই’ বা বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামার আগে দলের ব্যাটিং ক্রমে বড়সড় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। পাঠানের মতে, বর্তমান টপ অর্ডারে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণ এবং তিলক ভার্মার মতো তিনজন বাঁ-হাতি ব্যাটারের উপস্থিতি ব্যাটিংয়ে একটি একঘেয়েমি তৈরি করছে, যা প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য নির্দিষ্ট রণকৌশল সাজানো অনেক সহজ করে দিচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে এবং টপ অর্ডারকে আরও আক্রমণাত্মক ও স্থিতিশীল করতে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে তাঁর নিয়মিত ৪ নম্বর পজিশন ছেড়ে ৩ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পাঠান তাঁর যুক্তিতে ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিলক ভার্মা বিগত ৫টি ম্যাচে মাত্র ১০৭ রান করতে সক্ষম হয়েছেন, যা ৩ নম্বর পজিশনের জন্য যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে, সূর্যকুমার যাদব বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটার এবং টপ অর্ডারে তাঁর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের স্পিনারদের ছন্দ নষ্ট করার ক্ষমতা রাখে। পাঠানের বিশ্বাস, ইনিংসের শুরুর দিকে অভিজ্ঞ সূর্যকুমারকে ব্যবহার করলে ভারত আরও বেশি রান তুলতে সক্ষম হবে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং এবং অলরাউন্ড বিভাগে ভারসাম্য ফেরাতে সহ-অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলকেও চূড়ান্ত একাদশে ফেরানোর কথা বলেছেন তিনি। যদিও ক্রিকেট মহলে কুলদীপ যাদব বা সঞ্জু স্যামসনকে খেলানোর দাবি উঠছে, তবে পাঠান মনে করেন এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে শুধুমাত্র সূর্যকুমারকে উপরে আনা এবং অক্ষরের প্রত্যাবর্তনই ভারতের জয়ের চাবিকাঠি হতে পারে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতের কাছে এই ম্যাচটি এখন মর্যাদার লড়াই, যেখানে হারলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হতে পারে। তাই ইরফান পাঠানের এই পরামর্শ টিম ম্যানেজমেন্ট কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।