কলকাতার বাতাস এখন আর শুধু ধুলোবালির জন্য খারাপ নয়, বরং অদৃশ্য বিষাক্ত গ্যাস বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘রেস্পিরার লিভিং সায়েন্সেস’-এর একটি নতুন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৫ সালে কলকাতার বাতাসের মান বা ‘একিউআই’ অন্তত ৮২ দিন খারাপ ছিল কেবল বিষাক্ত গ্যাসের কারণে। বিশেষ করে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এবং ওজোন গ্যাসের পরিমাণ বাতাসে অনেক বেড়ে গিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই চিন্তার বিষয়।
বিশেষজ্ঞ রোনাক সুতারিয়া জানিয়েছেন, আমরা সাধারণত মনে করি শুধু ধুলো বা ধোঁয়ার কণা (২.৫ পিএম) বাড়লেই বাতাস বিষাক্ত হয়। কিন্তু তথ্য বলছে, গত বছর ৬৮ দিন ধরে কলকাতার বাতাসে থাকা নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড এবং ১২ দিন ধরে থাকা ওজোন গ্যাস ছিল বায়ুদূষণের আসল কারণ। ডানলপ, উল্টোডাঙা, মৌলালি এবং রবীন্দ্র সরোবরের মতো ভিড় ও যানজটপূর্ণ এলাকায় এই গ্যাসের মাত্রা সবথেকে বেশি ছিল। এই বিষাক্ত গ্যাসগুলো সরাসরি আমাদের ফুসফুসের ক্ষতি করে এবং এর ফলে শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির সমস্যা অনেক বেড়ে যায়।
বসু বিজ্ঞান মন্দিরের অধ্যাপক অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় সতর্ক করে দিয়েছেন যে, শীতকালে অনেক মানুষ আগুন পোহাতে বা আবর্জনা সরাতে প্লাস্টিক ও নোংরা পোড়াচ্ছেন। এর ফলে কার্বন মনোক্সাইড এবং আরও অনেক ক্ষতিকর উপাদান বাতাসে মিশছে। এগুলো গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে মিলে ‘প্যান’ নামের এক বিষ তৈরি করছে, যা শীতের সকালে ঘন ধোঁয়াশা তৈরি করে। তাই দূষণ কমাতে হলে এখন শুধু ধুলো নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং আবর্জনা পোড়ানো বন্ধ করা এবং গাড়ির ধোঁয়া কমানোর দিকেও কড়া নজর দিতে হবে।
