সহস্র বছরের ঐতিহ্যে মকর সংক্রান্তি, গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের মহাযজ্ঞ

আজ পৌষ সংক্রান্তি। মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান ও দানধ্যানের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র তিথিতে গঙ্গাসাগরে স্নান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। এই বিশ্বাসই যুগ যুগ ধরে মানুষকে টেনে এনেছে বঙ্গোপসাগরের তটে।

ইতিহাস বলছে, গঙ্গাসাগরের মাহাত্ম্যের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন পুরাণ ও ধর্মগ্রন্থে। কিংবদন্তি অনুযায়ী, মহারাজ সগরের ষাট হাজার পুত্রের আত্মার মুক্তির জন্য ভগীরথের তপস্যায় গঙ্গা অবতরণ করেন ও সেই গঙ্গাই এসে মিলিত হয় সাগরে। গঙ্গা ও সাগরের এই পুণ্যসংযোগস্থলই আজকের গঙ্গাসাগর। পুরাণ মতে, “গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তি – স্নানং পুণ্যং দিনে দিনে”এই বিশ্বাসেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে পুণ্যস্নানের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

ব্রিটিশ আমলেও গঙ্গাসাগর মেলার উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন নথি ও ভ্রমণকাহিনিতে। ইতিহাসবিদদের মতে, উনিশ শতক থেকেই এই মেলা পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে পরিচিতি পায়।

 সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যাতায়াত ও পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন হলেও গঙ্গাসাগরের ধর্মীয় গুরুত্ব আজও অটুট রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিরল যোগে স্নান ও দানধ্যানের ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচারের মেলবন্ধনে গঙ্গাসাগর মেলা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের এক জীবন্ত অধ্যায়।

 আজ পৌষ সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাই পৌঁছাতে চলেছে মকর সংক্রান্তির মহাপুণ্যলগ্নে। সহস্র বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা গঙ্গাসাগর আজও প্রমাণ করে – সময় বদলালেও বিশ্বাসের স্রোত কখনও শুকিয়ে যায় না।