শিলিগুড়িতে চার্চ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মমতার বৈঠক: আজ থেকেই উত্তরবঙ্গে শুরু নির্বাচনী প্রচার

উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতেই শিলিগুড়িতে পৌঁছে এক তাৎপর্যপূর্ণ সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মসূচি সারলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার শিলিগুড়িতে পৌঁছে তিনি স্থানীয় চার্চের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সৌজন্যমূলক বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে পাহাড় ও সমতলের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু এবং উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা পাহাড়ে তৃণমূলের জমি শক্ত করতে সহায়ক হবে। চার্চ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও মুখ্যমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

আজ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার অভিযান বা ‘পোল ড্রাইভ’ শুরু করতে চলেছেন। শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর এই কর্মসূচির সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রগুলোতে তৃণমূলের আধিপত্য পুনরুদ্ধারে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। গত নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপির শক্তিশালী উত্থান ঘটেছিল, তাই এবার শুরু থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই সফরে জনসভা করার পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্বদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। উত্তরবঙ্গের চা বলয় এবং রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করে তিনি বেশ কিছু নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করতে পারেন বলেও জল্পনা চলছে।

নির্বাচনী প্রচারের এই পর্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অস্ত্র হতে চলেছে রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘তপশিলি বন্ধু’র মতো প্রকল্পগুলো যে উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছে, তা তিনি তাঁর বক্তৃতায় বারবার তুলে ধরছেন। শিলিগুড়িতে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আজকের এই সভার মাধ্যমে তিনি উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে কোন বার্তা পৌঁছে দেন এবং বিরোধী শিবিরের আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে পাল্টা কী কৌশল অবলম্বন করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।