১০ বছরের শিশুর শরীরে বিরল পিত্তনালীর পাথর, জটিল ইআরসিপিতে সফল মণিপাল হসপিটাল শিলিগুড়ি

পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থার একটি ইউনিট মণিপাল হসপিটাল, শিলিগুড়ি, দেশবন্ধু পাড়ার ১০ বছর বয়সী অভীক দে (নাম পরিবর্তিত)-এর পরিবারে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এক আবেগঘন ঘটনায়, যেখানে উন্নত চিকিৎসা দক্ষতা ও সহানুভূতির অনন্য মেলবন্ধন দেখা গেছে, শিশুটিকে গলব্লাডার ও পিত্তনালীর পাথরজনিত একটি বিরল ও তীব্র যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার জন্য সফলভাবে চিকিৎসা করা হয়।

এক রাতে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে, মণিপাল হসপিটালের কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ডা. পিনাকী সুন্দর কর-এর তত্ত্বাবধানে শিশুটির একটি জটিল কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এর ফলে সে দ্রুত আরাম পায় এবং তার পরিবার স্বস্তি ফিরে পায়।

পরীক্ষায় জানা যায়, অভীকের গলব্লাডারে পাথরের পাশাপাশি কমন বাইল ডাক্ট (CBD)-এও দুটি পাথর রয়েছে, যা শিশুদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে চিকিৎসক দল এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোলাঞ্জিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি (ইআরসিপি) নামক একটি বিশেষায়িত ও মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতির মাধ্যমে পাথর অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন।

এই ইআরসিপি প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং উত্তরবঙ্গে এত অল্প বয়সী রোগীর ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। চিকিৎসার পর শিশুটির দ্রুত উন্নতি হয় এবং পরের দিনই তাকে হসপিটাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলো-আপে দেখা যায়, তার আর কোনো পেটব্যথা নেই এবং পিত্তনালীতে কোনো পাথরের উপস্থিতিও নেই, যা চিকিৎসার সম্পূর্ণ সফলতাকে প্রমাণ করে।

এই প্রসঙ্গে ডা. পিনাকী সুন্দর কর বলেন, “রোগীর বয়স অনুযায়ী এটি একটি বিরল ও চ্যালেঞ্জিং কেস। শিশুদের ক্ষেত্রে গলব্লাডার ও কমন বাইল ডাক্টে একসঙ্গে পাথর হওয়া খুবই অস্বাভাবিক এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সংক্রমণ, জন্ডিস বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো ঝুঁকি এড়ানো যায়। পরিকল্পিতভাবে ইআরসিপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা নিরাপদে পাথর অপসারণ করতে পেরেছি এবং রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে কম বয়সীদের মধ্যেও এ ধরনের সমস্যা বাড়ছে। তাই শিশুদের দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথাকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

অভীকের মা, ঈশিতা দে (নাম পরিবর্তিত), বলেন, “আমার ১০ বছরের সন্তানকে এত কষ্টে দেখতে আমাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু মণিপাল হসপিটালে আসার পর থেকেই আমরা ভরসা পেয়েছি। ডা. পিনাকী সুন্দর কর এবং তাঁর পুরো টিম অত্যন্ত যত্ন, ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে আমার ছেলের চিকিৎসা করেছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এত কিছু হওয়া সত্ত্বেও আমার সন্তান কখনো ভয় পায়নি। আজ তাকে হাসিখুশি ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দেখে মনে হচ্ছে এটি এক আশীর্বাদ। আমার সন্তানের নতুন জীবন দেওয়ার জন্য আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।”

এই ঘটনা পূর্ব ভারতে উন্নত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসা পরিষেবার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে তুলে ধরে এবং জটিল ও বিরল শিশু রোগের ক্ষেত্রেও মণিপাল হসপিটাল, শিলিগুড়ির বিশেষায়িত ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা প্রদানের অঙ্গীকারকে আরও একবার দৃঢ় করে।