মণিপালসিগনা হেল্থ ইনসিওরেন্স উত্তর-পূর্ব ভারতে উন্নত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে তাদের প্রধান পণ্য মণিপালসিগনা সর্বহ্-কে সামনে রেখে এগোচ্ছে। নিয়েলসনকিফউ পরিচালিত সমীক্ষায় ‘প্রোডাক্ট অফ দ্য ইয়ার ২০২৫ – হেলথ ইন্স্যুরেন্স’ হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই সংস্থা প্রথমবার বিমা গ্রহণকারীদের জন্য মৌলিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে শূন্য অপেক্ষাকালসহ উন্নত সুবিধাযুক্ত বিভিন্ন পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার বিকল্প হাজির করেছে।
কোম্পানির চিফ মার্কেটিং অফিসার স্বপ্না দেশাই গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, উত্তর-পূর্বের প্রতিটি পরিবারের কাছে সাশ্রয়ী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আঞ্চলিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আমরা উত্তর-পূর্বের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে আটটি শাখা চালু করেছি এবং আগামী তিন বছরে প্রায় ১০,০০০ উপদেষ্টা নিয়োগ করতে চলেছি, যাঁদের মধ্যে তিন হাজার নারীকে স্বাস্থ্যবিমা উপদেষ্টা হিসেবে গড়ে তোলার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজভিত্তিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায় প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত বিমার প্রচার ও প্রসার আরও শক্তিশালী হয়। ফুটবল কিংবদন্তি ভাইচুং ভুটিয়া সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর।
বিভিন্ন গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যার মধ্যে রয়েছে ইনফিনিট সুরক্ষা সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গ কভারেজ, প্রথম দিন থেকেই শূন্য অপেক্ষাকাল ও আনলিমিটেড সাম অ্যাসিউরড-এর সুবিধা, এবং ‘মিসিং মিডল’-এর জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা, যা নতুন গ্রাহক ও অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রত্যাশীদের জন্য উপযোগী। কোম্পানির হেড এজেন্সি বিশাল সুরানা জানান, উত্তর-পূর্বে সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় সমাজভিত্তিক শক্তিশালী উপদেষ্টা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং ব্যক্তিগত পরিষেবা আরও উন্নত করা।
মণিপাল গ্রুপ ও সিগনা হেলথকেয়ারের যৌথ উদ্যোগ এই বিমা সংস্থার সদর দফতর মুম্বইয়ে অবস্থিত। সারা দেশে ১২০টিরও বেশি শাখা, এক লক্ষের বেশি এজেন্ট, ৫০০-র বেশি ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার এবং ১৫,০০০-এর বেশি হাসপাতালের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ৫০০-র বেশি শহরে পরিষেবা দিচ্ছে। উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে ১০০-র বেশি হাসপাতালের সঙ্গে এদের চুক্তি রয়েছে, যা গ্রাহকদের সহজে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পেতে সাহায্য করবে। কোম্পানিটি তিন বছরের অপেক্ষাকালসহ প্রি-ম্যারেজ মাতৃত্বকালীন পলিসিও চালু করেছে এবং সিনিয়র সিটিজেন স্বাস্থ্যবিমা ৫৬ বছর বয়স থেকে শুরু হলেও এতে বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকছে না, ফলে প্রবীণরাও সহজে স্বাস্থ্যসুরক্ষার আওতায় আসতে পারছেন। উত্তর-পূর্বের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বপ্ন দেশাই বলেন, ক্যানসারের হার, মাতৃমৃত্যুর হার এবং অকালমৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে স্বাস্থ্যবিমার প্রয়োজন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
উত্তর-পূর্বে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে মণিপালসিগনা তাদের সম্প্রসারণ অভিযান শুরু করল
