খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে তো*প বিধায়ক শংকর ঘোষের

শহরে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানের প্রেক্ষিতে খাদ্য দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। এদিন তিনি সরাসরি খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন ও অভিযানে একের পর এক অনিয়ম ধরা পড়লেও কেন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গত কয়েক মাসে ধরে শিলিগুড়ি জুড়ে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী মজুতসহ নানা অসঙ্গতি সামনে এসেছে।

কিন্তু ধারাবাহিক নজরদারির পরেও কেন একই ধরনের ঘটনা বারবার প্রকাশ্যে আসছে, তা নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। বৈঠক শেষে শিলিগুড়ির বিধায়ক বলেন, “অভিযানে যদি অনিয়ম ধরা পড়ে, তাহলে শুধুমাত্র সতর্কবার্তা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল, মোটা অঙ্কের জরিমানা বা সাময়িকভাবে দোকান বন্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো আপস করা যায় না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শহরে বহু খাবারের দোকান লাইসেন্স ছাড়াই গড়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়ার পর দোকানের নাম বদলে নতুন নামে ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ধরনের প্রবণতা রুখতে কঠোর ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রয়োজন বলে মত তাঁর। বিধায়ক জানান, কলকাতার পর শিলিগুড়িতেও হোটেল -রেস্টুরেন্টের খাবারের মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তিনি বলেন, “২০২৬ সালে সরকার পরিবর্তন হলে এই বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে ও খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।”কথার মধ্য দিয়ে রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেন তিনি।

পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, দার্জিলিঙে সারা রাজ্যের মধ্যে খাদ্য পরীক্ষার জন্য দুটি ল্যাবরেটরি রয়েছে। খাদ্যের মান ও গুণমান নিয়ে সাম্প্রতিক রিপোর্টে কী উঠে এসেছে, সে বিষয়েও তিনি জানতে চান। ঘটনাকে ঘিরে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।