প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি এক জনসভায় কংগ্রেস দলকে তীব্র আক্রমণ করে ‘রাজনৈতিক শকুন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করছে বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশ যখন একটি সংবেদনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা যখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, তখন কংগ্রেস রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন যে, মৃতদেহের ওপর রাজনীতি করা বা জাতীয় সংকটকে পুঁজি করে ভোট ব্যাংক তৈরি করা এক ধরণের নিম্নরুচির রাজনীতি, যা কংগ্রেস বছরের পর বছর ধরে করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আরও উল্লেখ করেন যে, কংগ্রেস দল সর্বদা ভারতের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বৈশ্বিক সংকটের সময় দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করার পরিবর্তে ভয় দেখানোর কৌশল অবলম্বন করে। তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করা, কিন্তু কংগ্রেস তার পরিবর্তে বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তার জন্ম দিচ্ছে। যুদ্ধের আবহে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি বা নিরাপত্তার অভাব নিয়ে কংগ্রেস যে প্রচার চালাচ্ছে, তাকে প্রধানমন্ত্রী ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন। মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, তার সরকার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং দেশের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
নির্বাচনী প্রচারণার এই উত্তপ্ত মুহূর্তে মোদীর এই ‘শকুন’ মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তিনি ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, যারা দেশের সংকট নিয়ে উৎসব পালন করে এবং ভয়ের রাজনীতি করে, তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয়তাবাদকে প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে, তারা কেবল সরকারের ব্যর্থতা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কথা তুলে ধরছে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই বাকযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।
