মালদহ কাণ্ডে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার মোফাক্কেরুল ইসলাম

মালদহের কালিয়াচক এলাকায় অবরোধ-বিক্ষোভ ও বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার করা হল অভিযুক্ত ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে। শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, পালানোর চেষ্টা করার সময় বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবারই মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকেই পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বা কোনও বার্তার উত্তর দেননি। তবে গ্রেফতারের আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “ভালো থাকুন আপনারা।”

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে ও মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, মোফাক্কেরুল ইসলামকে এই ঘটনার ‘মূল প্ররোচনাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি পৃথক মামলা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে বুধবার মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাতজন বিচারককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। সেই সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার অভিযোগও ওঠে।

যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য প্রশাসনকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে ও তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠক করে মালদহ কাণ্ডের তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন নেতার প্ররোচনায় বিক্ষোভ আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। সেই সূত্রেই মোফাক্কেরুল ইসলামের নাম উঠে আসে এই ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে।