প্র*য়াত মুকুল রায়, রাজ্য রাজনীতিতে শো*কের ছায়া

রাজ্য রাজনীতির এক পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ মুকুল রায় আর নেই। রবিবার গভীর রাতে নিউ টাউনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীণ এই নেতা।

মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর বাসভবনের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সমর্থক ও কর্মীরা। রাজনৈতিক মহলে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে মাদুরাই কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিসট্রেশন বিষয়ে এমএ সম্পন্ন করেন।

কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে তিনি হয়ে ওঠেন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়ে দল গঠন করলে, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মুকুল রায়। সংগঠন গড়া ও কৌশল নির্ধারণে তাঁর দক্ষতার জন্য তাঁকে ‘তৃণমূলের চাণক্য’ বলা হত।

তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির ১৯টি আসন লাভের নেপথ্যে তাঁর সংগঠনিক ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। পরে পুনরায় তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করলেও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি।

জীবনের শেষ পর্বে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেলেও তাঁর প্রভাব ও রাজনৈতিক স্মৃতি অম্লান ছিল। একজন কৌশলী সংগঠক, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান বিধায়ক হিসেবে তাঁর প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হল এক বড় শূন্যতা। তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি দল নয়, সমগ্র রাজনৈতিক মহলেই গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।